বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পঞ্চম জয়

৭ উইকেট নিয়ে টেস্টের শেষ দিনে ৩৩৭ রান তুলে ম্যাচ জেতা জিম্বাবুয়ের পক্ষে ছিল অসম্ভব। ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলতে নামা মাহমুদউল্লাহকেও হতাশ হতে হয়নি। মিরাজ-তাসকিনরা দারুণ বোলিংয়ে জয়ে দিয়ে রাঙালেন সতীর্থের বিদায়টা। জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫৬ রানে গুটিয়ে দিয়ে ২২০ রানে ম্যাচ জিতল বাংলাদেশ, যা বিদেশের মাটিতে রানের হিসাবে সর্বোচ্চ।

দুই ইনিংসে মিলিয়ে ১৪৮ রানে ৯ উইকেট পাওয়া মেহেদি হাসান মিরাজ বা ক্যারিয়ার সেরা টেস্ট খেলা তাসকিন ছিলেন ম্যাচসেরার তালিকায়। কিন্তু অপরাজিত ১৫০ রানের ইনিংসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মাহমুদউল্লাহই বাকিদের ছাপিয়ে নায়ক হয়ে যান। শেষ টেস্টে ম্যাচসেরার পুরস্কার নিয়ে শেষ করাটাও যে আনন্দের। জয়ের মঞ্চ প্রস্তুত থাকলেও পঞ্চম দিন বাংলাদেশের তাতে উঠতে বিলম্ব হয়। দিনের শুরুতে প্রথম ঘণ্টায় কোনো উইকেট পায়নি টাইগাররা। সঙ্গে ক্যাচ মিসের পুরনো অভ্যাসও ফিরে আসে। ডিওন মায়ের্স ১৬ রানেই পান দুই সুযোগ। একবার মিরাজের বলে লিটন ক্যাচ ছাড়েন। আরেকবার তাসকিন নিজের বলেই ফেলে দেন ফিরতি ক্যাচ। আবার মিরাজের বলেই সিøপে সাকিব ছাড়েন টিরিপানোর ক্যাচ। তবে সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে ম্যাচ বাঁচানোর পথ তৈরি করতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। পানি পানের বিরতির পরই ভেঙে পড়ে জিম্বাবুয়ের লড়াই।

২৬ রান করা মায়ের্সকে ফিরিয়ে শুরু করেন মিরাজ। মাত্র ৩ বল পর মারুমা আউট শূন্যতে। আগের ইনিংসেও শূন্যতে আউট হন তিনি। ৫ বল খেলে তাসকিনের বলে এলবিডব্লিউ রয় কাইয়াও। তিনিও পেয়ার পান। ৩ বল খেলা রেজিস চাকাভা তাসকিনের দুর্দান্ত এক ইনসুইঙ্গারে সরাসরি বোল্ড। পাকিস্তান পেস গ্রেটদের ইনসুইং শিল্পকেই দেখা যায় এক্ষেত্রে। পুরনো বলে অফস্ট্যাম্পে পিচ করিয়ে ব্যাটসম্যানের ব্যাট-প্যাড ফাঁকি দিয়ে মিডলস্ট্যাম্প উপরে ফেলা ডেলিভারি বাংলাদেশের কজন পেসার দিতে পেরেছেন। মাত্র ১৯ বলে ৪ উইকেট তুলে নেওয়ায় প্রথম সেশনেই ম্যাচ শেষের অপেক্ষা ছিল। কিন্তু শেষ তিন উইকেটে ৩৪.৪ ওভার কাটিয়ে বাংলাদেশকে জয়ের অপেক্ষায় রাখে। টেস্টে অসাধারণ বোলিংয়ের ফল পেয়েছেন তাসকিন। লাঞ্চের পর ভিক্টর নায়াউচিকে ফিরিয়ে ৮২ রানে ৪ উইকেট পূর্ণ করেন। যা তার ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং। ১৪৪ বলে ৫২ করে ক্রিজে পড়ে থাকা টিরিপানোকে ফেরান এবাদত। এই টেস্টে তার একটিই উইকেট। এরপর কম সময়ের মধ্যে ১০ রান করা এনগারাভাকে নিজের চতুর্থ শিকার বানান মিরাজ। ম্যাচে ১৪৮ রানে তার ৯ উইকেট বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি বোলারের সেরা স্পেল। ৩০ রানে অপরাজিত ছিলেন মুজারাবানি।

বিদেশের মাটিতে এ নিয়ে পঞ্চম জয় পেল বাংলাদেশ। ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শততম টেস্ট জয়ের পর প্রথম। এছাড়া জিম্বাবুয়েকেই ২০১৩-তে এবং উইন্ডিজের বিপক্ষে ২০০৯-এ দুটি।