বাগেরহাটে করোনাভাইরাসের টিকা নিতে কেন্দ্রে টিকা গ্রহীতাদের ভিড় উপচে পড়ছে। টিকা গ্রহীতাদের ভিড়ের চাপে হিমশিম খেতে হচ্ছে রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের।
এতে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হচ্ছে বলে মনে করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। টিকার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে কেন্দ্রে ভিড় না করে তাই নির্দিষ্ট নিবন্ধনকারীদেরই শুধুমাত্র টিকা কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে টিকা নিতে বিভিন্ন বয়সের শত শত নারী-পুরুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকার জন্য অপেক্ষা করছেন।
গত দুইদিন ধরে বাগেরহাট সদর হাসপতালের টিকা কেন্দ্রে সাধারণ মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।
বাগেরহাট সদর উপজেলার প্রত্যন্ত বারুইপাড়া, সায়েড়া, কুরশাইল, যাত্রাপুরসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে কেন্দ্রে ভিড় করছেন টিকা গ্রহীতারা।
স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, টিকা কেন্দ্রে টিকা গ্রহীতাদের চাপ অনেক। গতকাল একদিনে এক হাজারের অধিক মানুষকে টিকা দেয়া হয়। চাপের কারণে আজ পাঁচটি বুথ খুলে টিকা দেয়া হছে। আজও প্রচুর চাপ আছে।
টিকা গ্রহীতারা বলেন, এখন করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি, তাই এই টিকা নিতে এসেছি। আগে মানুষের মধ্যে সচেতনতা কম ছিল, এখন অনেকটা বেড়েছে।
বাগেরহাট সদর উপজেলার পশ্চিম সায়েড়া গ্রামের চিত্তরঞ্জন পাল, কুরশাইল গ্রামের রুখসানা বেগমরা বলেন, সকাল সাতটায় টিকা কেন্দ্রে এসেছি। দশটার বেশি বেজে গেছে এখনো বৃদ্ধ মাকে নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কেন্দ্রে যে ভিড় দেখছি তাতে আরও ২/৩ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হবে বলে মনে হচ্ছে। করোনা থেকে রক্ষা পেতে গ্রাম থেকে এখানে টিকা নিতে এসেছি।
রেড ক্রিসেন্টের যুব প্রধান জুয়েল হোসেন বলেন, করোনা দ্বিতীয় ঢেউয়ে যে টিকা এসছে তা নিতে কেন্দ্রে সাধারণ মানুষের ভিড় সামাল দিতে রেড ক্রিসেন্ট সদস্যদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। ভিড় সামাল দিতে রেডক্রিসেন্টের ৫০/৬০ জন কাজ করছে। এখানে আসা টিকা গ্রহীতাদের জন্য বসার জায়গা রাখা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল সাতটা থেকে বিকেল তিন-চারটা পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে রেড ক্রিসেন্ট কাজ করে যাচ্ছে।
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. কে এম হুমায়ুন কবির বলেন, গত ৮ জুলাই থেকে বাগেরহাটে গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই টিকা ৩৫ বছরের উর্ধ্ব বয়সীরাসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ এই টিকা গ্রহণ করতে পারছেন। সকলে নিবন্ধন করলে ম্যাসেজ পাবেন তারাই শুধুমাত্র টিকা কেন্দ্রে টিকা নিতে আসবেন।
তিনি বলেন, এই কেন্দ্রে যারা অ্যাসট্রেজেনেকার প্রথম ডোজ টিকা নিয়ে দ্বিতীয় ডোজ পাননি তারা এক ধরনের আতঙ্কে আছেন। তারা টিকা পেতে এখন কেন্দ্রে এসে ভিড় করছেন। এছাড়াও সম্প্রতি শুরু হওয়া অনেক নিবন্ধনকারী ম্যাসেজ না পেয়েও কেন্দ্রে ভিড় করছেন। প্রতিদিন চারশজনকে ম্যাসেজ দেয়া হলেও কেন্দ্রে টিকা গ্রহীতার সংখ্যা থাকছে হাজারের উপরে।
এভাবে কেন্দ্রে ভিড় করার প্রয়োজন নেই। ম্যাসেজ পেলেই তা নিয়ে কেন্দ্রে আসলে টিকা গ্রহীতা যেমন সুন্দরভাবে টিকা নিতে পারবেন এবং স্বাস্থ্যকর্মীরাও আপনাদের সুন্দরভাবে টিকা দিতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, আগামীকাল মঙ্গলবার ১৩ জুলাই থেকে উপজেলাগুলোতেও টিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। আজ সব উপজেলাতে টিকা পাঠানো হচ্ছে। যার যার উপজেলা টিকা কেন্দ্র থেকে টিকা নিতে পারবেন।