এক সড়কে ভোগান্তি কমবে লাখো মানুষের

গাজীপুর শহরের শিববাড়ি থেকে ঢাকার বিমানবন্দর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ বিআরটি প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানজট লেগেই আছে। এ যানজট কমাতে একটি বিকল্প সড়ক নির্মাণের কথা ছিল সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের। কিন্তু নয় বছরেও সেই সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ ছিল না। এরই মধ্যে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল সড়কের পাশ দিয়ে মহানগরীর সুকুন্দিরবাগ ব্রিজ থেকে টঙ্গী বনমালা রেলগেট পর্যন্ত রেলের জমির ওপর দিয়ে যে সড়কটি বয়ে গিয়েছিল সেটিও রেল বিভাগ তাদের ডাবল রেললাইন প্রকল্পের জন্য বন্ধ করে দেয়। এতে গাজীপুর শহর থেকে টঙ্গী হয়ে ঢাকায় যাতায়াতকারী লাখো মানুষের চলাচলের বিকল্প পথটি বন্ধ হয়ে যায়।

পরে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম রেললাইনের পূর্বপাশ দিয়ে বিকল্প একটি সড়ক নির্মাণ করার জন্য সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগকে নির্দেশ দেন। প্রায় তিন মাস ধরে ২০-২৫ ফুট গভীর খাদ ভরাট করে বিকল্প সড়কটি নির্মাণের জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে সিটি করপোরেশন কর্র্তৃপক্ষ। আসছে ঈদুল আজহার আগেই বিকল্প এই সড়ক চালুর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সাময়িকভাবে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করে তোলার জন্য ইট বিছানোর কাজ শুরু করা হয়েছে।

গাজীপুর নগরীর একাধিক বাসিন্দা দেশ রূপান্তরকে জানান, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী-বিমানবন্দর অংশের বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের কাজের দীর্ঘসূত্রতার কারণে নগরবাসীর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এ দুর্ভোগ থেকে সড়কটিতে চলাচলকারী নগরবাসীসহ সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘব করতেই গাজীপুর শহর থেকে টঙ্গী বনমালা রেলগেট পর্যন্ত বিকল্প রাস্তা বের করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। মেয়র জাহাঙ্গীর আলম প্রায় তিন মাস আগে রাস্তার পাশের জমির মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে রাস্তাটি প্রশস্তকরণের উদ্যোগ নেন। জমির মালিকরাও স্বেচ্ছায় রাস্তার জন্য নির্ধারিত জায়গা থেকে ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও কবরস্থান ছেড়ে দিতে রাজি হন। এরই ধারাবাহিকতায় মেয়রের নির্দেশনায় সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ সড়কের এক কিলোমিটার অংশের ২০-২৫ ফুট নিচু এলাকা মাটি ও বালু ফেলে ভরাট করে এবং শতাধিক ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও অন্যান্য স্থাপনা বুলডোজারের সাহায্যে অপসারণ করা হয়। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনটি কবরস্থানের ৩৯টি কবর পাশের ১০ কাঠা জমি কিনে সেখানে স্থানান্তর করা হয়।

এ প্রসঙ্গে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে সুকুন্দিরবাগ ব্রিজ থেকে টঙ্গী বনমালা রেলগেট পর্যন্ত বিকল্প সড়কের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আশা করছি আসন্ন ঈদুল আজহার আগেই বিকল্প এ সড়কটির নির্মাণ সম্পন্ন হয়ে যানবাহন চলাচল করতে পারবে। এতে নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে।’