‘কামাল-বার্গম্যান-তারেকের ষড়যন্ত্র চুরমার করে জাতি এগিয়ে যাবে’

‘দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন ড. কামাল হোসেন সাহেব-বার্গম্যান-তারেক রহমানরা জনগণের কাছে সব গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এ দেশকে এগিয়ে যাওয়ার পথে যেকোনো প্রতিবন্ধকতাকে ভেঙে চুরমার করে বাঙালি জাতিকে তার অভিষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে’।

মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের এক জরুরি বৈঠক শেষে নেতারা এসব বলেন।

তার আগে ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী ছাত্রলীগের করোনা মহামারি'র এ সময়ে কর্মকাণ্ডের প্রসংশা করেন। তিনি ৭০’র মতো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের সময় দেশে হয়ে যাওয়া প্রলয়ংকারি ঘূর্ণিঝড়, বঙ্গবন্ধুর নির্বাচনী প্রচার বন্ধ করে দূর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর উদাহরণ তুলে ধরেন।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রলীগকে আর্তমানবতার সেবায় কাজ করে যাওয়ার নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান এ নেতা।

করোনার সময়ে ছাত্রলীগের মানবিক কার্যক্রমের প্রশংসা করে আওয়ামী লীগের আরেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ সব সহযোগী সংগঠন এ করোনার সময়ে আর্ত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। দেশে বন্যা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতির মধ্যেই পবিত্র ঈদুল আজহা সমাগত। ঈদুল আজহার প্রাক্কালে লকডাউন শিথিল করা হচ্ছে। এই পবিত্র ঈদুল আজহার সময়ও মানুষ যাতে সচেতন থাকে ছাত্রলীগের নেতৃত্বের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে।

৭৫’ পরবর্তীতে ড. কামাল হোসেনের ভূমিকার সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর এ সদস্য বলেন, ‘পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট যখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়, আমাদের আজকের সফল প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা যখন বিদেশে থাকার কারণে প্রাণে বেঁচে গেলেন এবং খুনী মোশতাক-জিয়ারা যখন দেশে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করল, তখন তাদের (বঙ্গবন্ধুসহ) রক্তের ওপর, সেই মুহূর্তে ড. কামাল হোসেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি একটি নিন্দা জানাননি অথবা সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানাবার মতো তার সৎ সাহসিকতা দেখাতে পারেননি’।

আওয়ামী লীগের আরেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নিকট অতীতে যেভাবে আমাদের মুগ্ধ করেছে, আমরা প্রত্যাশা করি সমানের দিনগুলোতেও তারা মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে। সংগঠনকে শক্তিশালী করবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহউদ্দিন নাছিম বলেন, এই কঠিন সময়ে ছাত্রলীগ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, সেই ধারাবাহিকতাকে সামনে রেখে বিশেষ করে বন্যার ঘনঘটা শুরু হচ্ছে, এসময় ছাত্রলীগ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। 

বৈঠকে ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল উপস্থিতি ছিলেন।

এ ছাড়া অন্যান্য নেতার মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃনাল কান্তি দাস, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য ইকবাল হোসেন অপু, শাহাবুদ্দিন ফরাজি, সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনসহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা।