নৈশপ্রহরীকে অবরুদ্ধ করে বিদ্যালয়ে অগ্নিসংযোগ, লুট

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় বড়পলাশবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরীকে অবরুদ্ধ করে চারটি শ্রেণিকক্ষের টিন, চেয়ার, বেঞ্চ ও আসবাব পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তারা প্রধান শিক্ষকের কক্ষের তালা ভেঙে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রজেক্টরসহ অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

গত সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয়রা ধারণা করছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নগেন্দ্রনাথ পাল জানান, রাতে বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরীকে কক্ষের বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে কে বা কারা দাহ্য পদার্থ দিয়ে টিনশেডের ৪টি শ্রেণিকক্ষে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে স্থানীয়রা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। তারা নৈশপ্রহরীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। নৈশপ্রহরী কৃষ্ণ চন্দ্র বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ দেলোয়ার হোসেন জানান, আমরা প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছি। দাহ্য পদার্থ দিয়ে আগুন লাগানোর কারণে দ্রুত ঘরগুলোর টিন ও চেয়ার-বেঞ্চ জ্বলে গেছে।

এলাকাবাসীর কাছে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই এলাকার আব্দুস সোবহান ও সামশুল হুদার সঙ্গে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির ১০ শতক জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ের আগুনের ঘটনা প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন। তাকে বিদ্যালয়ের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখ করে থানায় ডায়েরি করতে বলা হয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আসলাম জুয়েল জানান, বিদ্যালয়ের কক্ষে আগুন দেওয়ার ঘটনা ন্যক্কারজনক। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বের করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন তিনি।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যোবায়ের হোসেন বলেন, প্রধান শিক্ষককে এ ব্যাপারে থানায় লিখিতভাবে জানানোর জন্য বলা হয়েছে।