রাজশাহী নগরীতে শুরু হয়েছে মডার্না ইঙ্কের কভিড-১৯ টিকাদান কর্মসূচি। প্রথম দিনেই টিকাকেন্দ্রে ছিল উপচে পড়া ভিড়। নির্ধারিত ৪০০ জনকে টিকা নেওয়ার জন্য ডাকা হলেও ম্যাসেজ না পেয়েও অনেকেই প্রথম দিনেই টিকা নিতে ভিড় করেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ফলে টিকা কেন্দ্রে ভেঙে পড়ে স্বাস্থ্যবিধি। অনেকেই গাদাগাদি করে টিকা নিয়েছেন। টিকা নিতে আসা অনেকের মুখেই ছিল না মাস্ক।
সরেজমিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টিকাদান কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, প্রথম দিনের টিকা নিতে বেশ লম্বা লাইন হয়। কয়েকশ নারী-পুরুষ টিকার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। টিকা নিতে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন টিকাপ্রার্থীরা। প্রায় এক ঘণ্টা পর টিকা পেয়েছেন নগরীর সাহেব বাজার এলাকার মাসুদ রানা। তিনি বলেন, ‘এক ঘণ্টা ঘরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। অনেক গরম, সেই সঙ্গে মানুষের ভিড়। ভিড়ে মানুষ মানুষের গায়ের ওপর পড়ছে। কিছুই করার নেই। স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই নিচ্ছেন টিকা।’
টিকাকেন্দ্রে আসা জানে আলম বলেন, ‘আমাদের তো রাস্তায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হচ্ছে। এখানে এসে দেখি উল্টো চিত্র। এখানেই কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। গায়ের ওপর এসে পড়ছে। এখন এখান থেকে করোনা নিয়ে গেলাম কী না সেটা আবার মনের মধ্যে সন্দেহ হচ্ছে।’
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এএফএম আঞ্জুমান আরা বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মডার্নার টিকা দেওয়া হচ্ছে। নারী-পুরুষের জন্য কয়েকটি বুথে এই টিকা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. কাইয়ুম তালুকদার জানান, ‘শুধু সিটি করপোরেশন এলাকায় মডার্নার টিকা দেওয়া হবে। আর জেলা পর্যায়ে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নির্দিষ্ট পরিমাণে চলমান রয়েছে সিনোফার্মের টিকার কার্যক্রম। প্রথম দিনের জন্য আমরা মূলত ৪০০ জনকে এসএমএস দিয়ে ছিলাম। কিন্তু অনেকেই এসএমএস না পেয়েই চলে এসেছিলেন। এ কারণেই এই ভিড়টা হয়েছে। তারপরও আমরা মাইকিং করছি। এছাড়া আমরা সাবার মুখে মাস্ক রেখেছি। তবে আগামী দিনে এই সমস্যাটা আর হবে না।’
রাজশাহীতে গত রবিবার সন্ধ্যায় পৌঁছায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া মডার্না ইঙ্কের কভিড-১৯ টিকা। সন্ধ্যায় একটি কাভার্ড ফ্রিজার ভ্যানে ঢাকা থেকে রাজশাহী আসে ১৮ হাজার ভায়াল টিকা। একেকটি ভায়ালে ১০ জন টিকা নিতে পারবেন।
অন্যদিকে রাজশাহী বিভাগে সোমবার সিনোফার্মের টিকা পেয়েছেন মোট ৬ হাজার ৬৪৩ জন। এর মধ্যে রাজশাহীতে ৫৭৬ জন, চাঁপাইনবাগঞ্জে ২৮৩ জন, নাটোরে ১ হাজার ২৮৭ জন, নওগাঁয় ৯৩১ জন, পাবনায় ১ হাজার ৩ জন, সিরাজগঞ্জে ২৭৩ জন, বগুড়ায় ৮৫৩ জন, জয়পুরহাটে ৬৪৭ জন, সিটি কপোরেশন এলাকায় ৭৯০ জন।