বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ

ঈদকে সামনে রেখে বোনাস ও বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছেন। এর মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার সকালে বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে গাজীপুরের বড়বাড়ি এলাকায় ন্যাশনাল কেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারিং কোং লি. নামে একটি কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছেন। এ ছাড়া একই দিন দুপুরে একই দাবিতে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ভয়াবহ এলাকায় ‘ফোকাস অটো ব্রিকস ফিল্ডের’ শ্রমিকরাও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। এদিকে মূল বেতনের অর্ধেক বোনাসের দাবিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা উপজেলার নন্দলালপুর এলাকার প্রাইম টেক্সটাইল লিমিটেড নামে একটি কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছেন। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবরে :

গাজীপুর : ন্যাশনাল কেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারিং কোং লি. কারখানার সহকারী কেমিস্ট এবং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাহফুজুল ইসলাম জানিয়েছেন, কয়েকটি সেকশনে দেড় শতাধিক শ্রমিক বোনাসসহ চার মাসের বেতন বকেয়া দাবিতে বিক্ষোভ করছেন।

কারখানা ইনচার্জ আবু বকর সিদ্দিক জানান, গত শনিবার শ্রমিকদের নিয়ে কারখানার এমডি ভার্চুয়াল মিটিং করেছেন। মিটিংয়ে করোনাকালে বন্ধের প্রথম ৪৫ দিনের ৫০ শতাংশ এবং পরের দিনগুলোর ২৫ শতাংশ বেতন দেওয়ার কথা জানানো হয়। কিন্তু শ্রমিকরা সিদ্ধান্তটি না মেনে কারখানার মূল ফটকে বিক্ষোভ করছে।

ভালুকা (ময়মনসিংহ) : আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানিয়েছেন, গত শনিবার মে ও জুন মাসের বকেয়া বেতন দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মালিকপক্ষ গতকালও সেই বকেয়া পরিশোধ না করায় শতাধিক শ্রমিক কর্মবিরতি পালন ও বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। খবর পেয়ে কারখানার চেয়ারম্যান জহিরুল আলম রুবেল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগামী ১৯ জুলাই বকেয়া বেতন পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে।

ফোকাস অটো ব্রিকস ফিল্ডের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম রুবেল বলেন, ‘শ্রমিকরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাজে যোগদান না করলে ব্রিকস আপনা-আপনিই বন্ধ হয়ে যাবে।’ ভালুকা মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়।

নারায়ণগঞ্জ : বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ভাষ্য শ্রম আইন অনুসারে মূল বেতনের অর্ধেক বোনাস দেওয়ার জন্য মালিকপক্ষের কাছে দাবি জানানো হয়। কিন্তু মালিকপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত না দেওয়ায় গতকাল সকাল থেকে শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে রাস্তায় অবস্থান নেয়। পরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ এলে রাস্তা থেকে সরে গিয়ে কারখানার গেইটে অবস্থান নেয় সবাই। এ নিয়ে শ্রমিকদের একটি প্রতিনিধিদল মালিকপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠকে দাবি মানা না হলে শ্রমিকরা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।