করোনাভাইরাসে আক্রান্তের পর যেসব অল্পবয়স্ক ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, তাদেরও পঞ্চাশোর্ধ্বদের মতো শারীরিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার নতুন এক গবেষণার বরাতে এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
গবেষণা বলছে, ১৯ থেকে ৪৯ বছর বয়সী প্রতি ১০ জনের মধ্যে চারজনেরই কিডনি, ফুসফুসসহ অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চিকিৎসা করাতে হচ্ছে।
গত বছর করোনার প্রথম ঢেউ চলাকালে যুক্তরাজ্যের ৩০২টি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৭৩ হাজার ১৯৭ তরুণের ওপর এ গবেষণাটি করা হয়। গবেষণা দলের নেতৃত্ব দেওয়া অধ্যাপক ক্যালুম সিমপল বলেন, ‘এ গবেষণার মাধ্যমে এ বার্তাই পাওয়া যাচ্ছে করোনা শুধু বয়স্কদের সংক্রমণ ও মৃত্যু ঘটাচ্ছে না। এ গবেষণা এটাও বলছে করোনা কোনো সাধারণ ফ্লু নয়। এটি হাসপাতালে আসা তরুণদের শরীরে এমন কিছু সুনির্দিষ্ট জটিলতা তৈরি করছে, যেগুলোর জন্য ভবিষ্যতেও তাকে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।’
যৌথভাবে এ গবেষণা পরিচালনা করেছে যুক্তরাজ্যের আটটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড সোশ্যাল কেয়ার।
গবেষণায় বলা হয়, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সময়ে প্রায় অর্ধেক রোগী অন্তত একটি সমস্যায় ভুগেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা হলো কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। আর কিডনির অসুস্থতা থেকে ফুসফুস ও হার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এতদিন গবেষণায় বলা হয়েছে, করোনায় পঞ্চাশোর্ধ্বদের ৫১ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে কিডনির সমস্যা দেখা গেছে। কিন্তু এখন তরুণদের মধ্যেও একই সমস্যা খুব সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ৩৭ শতাংশ এবং ৪০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ একই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন বলে গবেষণায় যুক্ত নার্স ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরা দেখতে পেয়েছেন।
করোনায় গুরুতর অসুস্থ হলেও শরীরের অঙ্গপ্রতঙ্গ কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি চিকিৎসকরা। তবে তারা মনে করেন, করোনা দেহের অভ্যন্তরে প্রতিরোধ ব্যবস্থায় সংক্রমণ ছড়িয়ে সুস্থ টিস্যুর ক্ষতি করতে বেশ পারঙ্গম।
গত বছরের মার্চে করোনায় আক্রান্ত হন এসেক্সের ফ্রিন্টনের পল গডফ্রে। সুস্থ হওয়ার পর তার বুকে সংক্রমণ দেখা দিলে বেশ ভোগান্তিতে পড়েন। ৩১ বছর বয়সী পল গডফ্রের ফুসফুসে ব্রঙ্কাইবেটিসিস হয়েছিল। তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘নিঃসন্দেহে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের কর্মীরা পরম যতেœ আমাকে দ্বিতীয় জীবন দিয়েছে। তারা না থাকলে আমাকে হয়তো আজ এখানে পাওয়া যেত না।’