দীর্ঘদিন টিভি নাটকে রোমান্টিক নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছেন রাফিয়াত রশিদ মিথিলা। কিন্তু ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে তার কাজের দিকে খেয়াল করলে দেখা যায়, অভিনীত চরিত্রগুলো একটি থেকে আরেকটি আলাদা। এই তারকা এখন কলকাতায় অবস্থান করছেন। সেখান থেকে মিথিলা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বয়স, সময়, রুচিবোধ- এসব কিছুই আসলে মানুষকে নতুন মাত্রা দেয়। এখন আমার যে মানসিক অবস্থান, তাতে মনে হয়েছে এখনই সময় ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র মেলে ধরার। বিগত এক বছর ধরে মূলত এই চর্চাটাই করছি। বিশেষ করে আসছে ঈদুল আজহায় আমার যে ১০টি কাজ প্রচার হবে তা দেখলে দর্শক বুঝতে পারবেন, প্রতিটি কাজের গল্প, চরিত্র ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন ভিন্ন। এবারের কাজগুলো নির্বাচন করার সময় নারীপ্রধান গল্প বেছে নিয়েছি। কোনটিতে আমি আইনজীবী, কোনটিতে চোর, প্রেগন্যান্ট ডাক্তার, এনজিও কর্মী, রিয়্যালিটি শোর উপস্থাপকে চরিত্র আবার কোনটিতে সেলস গার্ল। তাই এবারের কাজগুলো নিয়ে আমি খুব আশাবাদী।’
এবার ঈদে মিথিলাকে দেখা যাবে অলক হাসানের নির্দেশনায় ‘সুখী আত্মা’ নামের একটি খণ্ড নাটকে। এতে তার সহ অভিনেতা জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা পার্থ বড়ুয়া। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির অ্যান্থলজি ‘ঊনলৌকিক’-এও অভিনয় করেছেন মিথিলা। তার গল্পটির নাম ‘হ্যালো লেডিস’। সহশিল্পী ইরেশ যাকের। বাস্তবজীবনে ইরেশ যাকের মিথিলার ছোটবোন মিমের স্বামী। ছোট বোনের স্বামীর সঙ্গে কাজ করতে গেলে আলাদা কোনো অনুভূতি হয় কি না জানতে চাইলে হাসতে হাসতে মিথিলা বলেন, ‘এই ঈদে ইরেশের সঙ্গে দুটি কাজ করেছি। আরেকটি আরিফ এ আহনাফের “মিড নাইট সান”। এর আগে তার সঙ্গে যে কাজগুলো করেছি তাতে কোনো অসুবিধা হয়নি। সেই কাজগুলোর বেশিরভাগেই তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো থাকে না। ঝগড়ার অভিনয় আমরা খুব ভালো করতে পারি। কিন্তু এবার রোমান্টিক অভিনয় করতে সত্যি সমস্যা হচ্ছিল। আমরা আসলে নিজেরাই রোমান্টিক সম্পর্ক বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। কিন্তু দিন শেষে আমরা শিল্পী। তাই চরিত্রের মধ্যে ঢুকে অভিনয় করে গেছি।’
ঈদে মিথিলাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা তানিম রহমান অংশুর টিভি ফিচার ফিল্ম ‘সাহসিকা’তেও দেখা যাবে। এছাড়া ইরফান সাজ্জাদের সঙ্গে তিনটি খণ্ড নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। দুটি পরিচালক রাকেশ বসু।
মিথিলা বলেন, ‘রাকেশ বসুর দুটি কাজের মধ্যে “ঘূর্ণি” খুবই ইন্টারেস্টিং একটি গল্প নিয়ে। এতে দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেছি। আরেকটির নাম “সিজনাল চোর”। এখানে চোরের ভূমিকায় দেখা যাবে আমাকে। হাসান রেজাউলের “বিং ওম্যান”-এ করেছি একটি প্রেগন্যান্ট চিকিৎসকের চরিত্র। এ ছাড়া করেছি গৌতম কৈরীর “কে আমি”। মোট কথা সব কটি কাজেই ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র আমার। অভিনয় করে তৃপ্তি পেয়েছি।’