করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারি বিধিনিষেধে বিপাকে পড়েছেন খুলনা নগরীর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। অনেকে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। কেউ কেউ ঋণের টাকা দিতে না পেরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনা মহামারীতে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ থাকায় নগরীর কয়েক হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর গচ্ছিত অর্থ শেষ হয়ে গেছে। মাঝে দোকানপাট চালু হলে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। তবে চলতি বছরের শুরুতে দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে গেলে ফের বিধিনিষেধ জারি করা হয়। এবার সরকার ত্রাণসামগ্রী না দেওয়ায় বিপাকে পড়েন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। জেলা প্রশাসক, র্যাব ও বিজিবি কিছু সহায়তা দিলেও তা কমসংখ্যক ব্যবসায়ীই পেয়েছেন। এর ওপর পাওনাদাররা ঋণের টাকার জন্য তাগাদা দিচ্ছেন। না পেলে নানাভাবে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
নগরীর মহিবাড়ি খালপাড় এলাকার চা দোকানি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘গত বছর পেলেও এবার কোনো সহায়তা পাইনি। গত বছর কমবেশি দোকান খুলতে পেরেছি, এবার একদম পারিনি। এবার খুলনায় করোনায় বেশি মৃত্যু হওয়ায় প্রশাসন খুব সক্রিয়। ফলে সামনে খাব কী, ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি।’ নগরীর শিরো পয়েন্ট এলাকায় চা-শিঙ্গাড়া বিক্রেতা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘যে অবস্থা, সংসার চলবে কীভাবে, সে চিন্তায় ঘুম আসে না।’
নগরীর কুয়েট সড়কের খাবারের দোকানি হাফিচুর রহমান বলেন, ‘এ রোডে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সবচেয়ে বেশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। করোনার আগে স্বামী-স্ত্রী মিলেও ক্রেতা সামলাতে পারতাম না। এখন আয় নেই। গত দুই মাস ঘরভাড়া দিতে পারিনি। এখন সমিতির কিস্তি দিতে না পেরে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।’
খুলনা সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক কুদরত-ই-খুদা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকার জাতীয় পরিচয়পত্র ধরে রেশন পদ্ধতি চালু করতে পারত। প্রশাসনের একটি অংশ তো রেশন পাচ্ছে। তাহলে নিম্ন আয়ের ও গরিব মানুষ কেন সে সুবিধা পাবে না? যারা রেশন পাচ্ছেন, তাদের চাকরির নিরাপত্তা রয়েছে। অথচ করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী খাদ্যের নিরাপত্তাটুকু পাচ্ছেন না!’
খুলনা জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘মহামারীতে সরকার জনগণের পাশে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরে ঘরে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। মেয়র, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন সমন্বিতভাবে স্বচ্ছতার সঙ্গে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছে। কোনো অসহায়, দুস্থ ও দরিদ্র পরিবার যাতে বাদ না যায়, সেদিকে আমাদের নজর রয়েছে।’