ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি
সাধারণ প্রশ্ন
১. নির্ভুল পরিকল্পনার মাধ্যমে হাইকিং আনন্দদায়ক হয় ব্যাখ্যা করো।
ভূমিকা : অজানাকে জানা, অচেনাকে চেনা, নতুনকে খোঁজা মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট্য। পৃথিবীতে টিকে থাকার জন্য মানুষের প্রয়োজন হয় জ্ঞান এবং শিক্ষার। আর এই জ্ঞান অর্জনের মানুষকে শত প্রতিকূলতা অতিক্রম করতে হয়। এই জ্ঞান অর্জিত হয় নানাভাবে পড়ে, শুনে, ভ্রমণ ইত্যাদির মাধ্যমে। হাইকিং তেমন একটি পদক্ষেপ।
হাইকিং : হাইকিং শব্দের অর্থ উদ্দেশ্যমূলক ভ্রমণ। যেকোনো পথনির্দেশিকা অনুসরণ করে নির্দিষ্ট গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করাকে হাইকিং বলে। সাধারণত একাকী, দুজন বা একটি উপদলের মাধ্যমে হাইকিং-এ অংশগ্রহণ করা যায়। হাইকিং-এ এক বা একাধিক রাত্রিযাপন করতে হতে পারে। হাইকিংয়ের সফল বাস্তবায়নে বেশ কিছু প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয়। হাইকিংয়ের মান নির্ভর করে পরিকল্পনার ওপর। উপদল অনুসরণ করে বিভিন্ন সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করে প্রস্তুতি নিতে হয়।
হাইকিং-এর আনন্দ : পরিকল্পনাহীন কাজে সফলতা লাভ করা যায় না। কাজের সফলতার জন্য নির্ভুল পরিকল্পনার গুরুত্ব অপরিসীম। হাইকিং একটি পরিকল্পিত কাজ। পরিকল্পিত কাজের আগে নির্ভুল পরিকল্পনার প্রয়োজন। হাইকিং-এর পরিকল্পনা যদি নির্ভুল হয় তাহলে হাইকিং-এ সফলতা আসে এবং হাইকিং আনন্দের হয়। নির্ভুল পরিকল্পনার কাজের সফলতা অনেক বেশি আনন্দের। হাইকিংয়ের আনন্দ নির্ভর করে নির্ভুল পরিকল্পনার ওপর।
২. স্কাউট আন্দোলনের মাধ্যমে সমাজে অবদান রাখা সম্ভব ব্যাখ্যা করো।
স্কাউটিং বিশ্বব্যাপী একটি অরাজনৈতিক সমাজসেবামূলক যুব আন্দোলন। স্কাউটিং-এ এমন কিছু নিয়ম প্রচলিত আছে মানবসেবায় অনুপ্রাণিত করে এবং সমাজে অবদান রাখা সম্ভব।
সামাজিক অবদানে স্কাউটিংয়ের ভূমিকা : সমাজসেবায় স্কাউটিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্কাউটিংয়ের মূলমন্ত্র হচ্ছে ‘সেবা’। এই সেবা হতে পারে আত্মসেবা, সমাজের সেবা ও মানবসেবা। আত্মসেবার অর্থ একজন আত্মনির্ভরশীল মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা। শ্রম, বুদ্ধিমত্তা ও চেষ্টায় নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত ও উপযুক্ত করে গড়ে তোলাই আত্মসেবার মূল লক্ষ্য। নিজে আত্মনির্ভরশীল হতে না পারলে অপরের সেবা বা বৃহত্তর কোনো কাজই করা সম্ভব নয়। অতএব নিজেকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে একজন স্কাউট হিসেবে সমাজের সাধারণ মানুষের বৃহত্তর কল্যাণের জন্য নিজেকে আত্মনিয়োগ করতে পারে। স্কাউট সমাজের সদস্য হিসেবে পরিবার ও সমাজের কথা চিন্তা করে এবং সব সময় তার করণীয় দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করে। তা ছাড়া সমাজের বৃদ্ধ, পঙ্গু, প্রতিবন্ধী, নারী, শিশু, অসুস্থ ও অসহায় মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করে থাকে। সমাজে যতগুলো সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান আছে, তাদের মধ্যে স্কাউট চিন্তা-চেতনা, দায়িত্ব ও কর্তব্যপরায়ণতায় একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান। স্কাউট অপরের সেবার জন্য বা যেকোনো ভালো কাজ করার জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকে। স্কাউটিং মূলমন্ত্র হচ্ছে ‘সদা প্রস্তুত’। মানবসেবার উদ্দেশ্যে অসীম সাহসিকতায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে সহিষ্ণুতার সঙ্গে, বন্ধুর মতো, নিজেকে অন্যের প্রয়োজনে উৎসর্গ করা হলো স্কাউটিং-এর ব্রত। প্রতিদিন কারও না কারও উপকার করা এটা হচ্ছে স্কাউটিং-এর সেøাগান।