অস্ট্রেলিয়াকে ৪-১-এ হারাল উইন্ডিজ

পাঁচ ম্যাচে টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচেও হেরেছে অস্ট্রেলিয়া। ফলে ৪-১-এ সিরিজ জিতেছে উইন্ডিজ। সেন্ট লুসিয়ায় এভিন লুইসের ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ে ঠিক ২০০ রানের টার্গেট দেয় স্বাগতিকরা। জবাব দিতে নেমে ৯ উইকেটে ১৮৩তে থামে অস্ট্রেলিয়া। ১৬ রানে হারা ম্যাচে অজি অধিনায়ক করেন ৩৪ রান।

শেষ ম্যাচে হারের ফলে বাজে রেকর্ডের স্বাদ পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে হার তাদের এবারই প্রথম। প্রথম তিন ম্যাচ হেরে আগেই সিরিজে পরাজয় মেনে নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। এরপর চতুর্থ ম্যাচে জয় পায়। শেষ ম্যাচে আবার হার।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ সিরিজ জয় পাওয়া উজ্জীবিত ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক নিকোলাস পুরান বলেছেন, ‘শুধু আমার জন্য নয় এটা দলের জন্য দারুণ একটা অর্জন। আমরা এখানে সঠিক খেলাটা খেলতে চেয়েছিলাম। স্পিনাররা সিরিজ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। হাইডেনকে নিয়ে আমরা খুব খুশি। সে আমাদের ম্যাচ জিতিয়েছে। দারুণ খেটে সে নিজেকে প্রস্তুত করেছিল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪-১-এ সিরিজ জয় উইন্ডিজের জন্য বিরাট অর্জন। নিজের কথা বলতে গেলে বলব নেতৃত্ব দেওয়া সব সময়ই কঠিন কাজ। অনেক কিছু সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে হয়। তারপরও সেটা কাজে লাগবে কিনা নিশ্চিত হওয়া যায় না। বোঝা সম্ভব হয় না কোনটা সেরা। এই সিরিজ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাব।’

শনিবার সেন্ট লুসিয়ায় টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করে উইন্ডিজ। এক প্রান্ত থেকে ঝড় তোলেন লুইস। অন্য প্রান্তে আন্দ্রে ফ্লেচার ১৬ বলে ১২, গেইল ৭ বলে ২১ করে ফিরলেও তাই রান তোলার গতিতে প্রভাব পড়েনি। মাত্র ২৩ বলে ফিফটি করেছেন লুইস। শেষ পর্যন্ত ৩৪ বলে ৭৯ রান করে আউট হন তিনি। ইনিংসে ৪টি চারের পাশাপাশি ৯টি ছক্কা মেরেছেন। লুইস যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন ততক্ষণ মনে হচ্ছিল উইন্ডিজ অনায়াসে ২০০ পেরিয়ে যাবে। কিন্তু শেষের ‘ডেথ ওভার’-এ অ্যান্ড্রু টাইয়ের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ২০০’র নিচে আটকে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস। নিকোলাস পুরান ১৮ বলে ৩১ রান করেন। আন্দ্রে রাসেল ৩ বলে ১ করে ব্যর্থ হয়েছেন। ড্যারেন ব্রাভো করেন ৭ বলে ৫ রান। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টাই ৩ উইকেট নিয়েছেন ৩৭ রানে। স্বভাববিরুদ্ধ ভাবে শেষ ৩০ বলে মাত্র ৩০ রান তুলতে পারে উইন্ডিজ। শুরুর মতো ঝড়ের গতিতে রান তুললে ৮ উইকেটে ১৯৯ রানের স্কোরটা আরও বড় হতে পারত। জবাব দিতে নেমে প্রথমে জশ ফিলিপের উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এরপর মিচেল মার্শ ১৫ বলে ৩০ আর মোজেস হেনরিকেস ১৪ বলে ২১ আর অধিনায়ক ফিঞ্চের ২৩ বলে ৩৪ রানের কল্যাণে ৯.২ ওভারেই ৯৫ তুলে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। এরপরেই দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে দারুণভাবে ম্যাচে ফেরে উইন্ডিজ। দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। শেষে ম্যাথু ওয়েড ১৮ বলে ২৬ রান, টাই ৮ বলে ১৫ রান আর মিচেল সোয়েপসন ১২ বলে ১৪ করে জেতার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেটা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট ছিল না। ফলে ৯ উইকেটে ১৮৩ রানে থেমেছে অস্ট্রেলিয়া। ৭৯ রানের অসাধারণ ইনিংসের জন্য ম্যাচসেরা হয়েছেন এভিন লুইস। আর ৫ ম্যাচের সিরিজে লেগ স্পিন আর গুগলি দিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের নাচানো হেইডেন ওয়ালশ হয়েছেন সিরিজসেরা।

গেইলকে ছক্কায় ছাড়িয়ে গেলেন লুইস

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ছক্কার রাজা ক্রিস গেইল। শনিবার  এভিন লুইস তাকে দ্রুত ছক্কা মারার হিসাবে পেছনে ফেলেছেন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ছক্কার দ্রুততম সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৩৪ বলে ৭৯ রানের ইনিংস খেলার পথে ৯টি ছক্কা মারেন। তার অষ্টম ছক্কাটি ছিল আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে একশতম ছক্কা। মাত্র ৪২ ইনিংসেই তিনি এটা করেছেন। যা করতে ৪৯ ইনিংস লেগেছিল গেইলের। নিউজিল্যান্ডের কলিন মানরো একশ ছক্কা মারেন ৫৭ ইনিংসে। অস্ট্রেলিয়ার অ্যারন ফিঞ্চ ৭০ ইনিংসে টি-টোয়েন্টিতে ছক্কার সেঞ্চুরি করেন। নিউজিল্যান্ডের মার্টিন গাপটিল ৭২ ইনিংস খেলে ছক্কার সেঞ্চুরি করেছিলেন। লুইসকে নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ছক্কার সেঞ্চুরিয়ান এখন সাতজন। তবে  ৯৮ টি-টোয়েন্টি ইনিংসে ১৪৭ ছক্কা মেরে সবার সেরা গাপটিল।