গত ১৪ জুলাই সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (একাংশ)।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ২০-দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান বলেছিলেন, জমিয়তের নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে জোট ছেড়েছেন।
চার দিন পর রবিবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জমিয়তের জোট ছাড়ার ব্যাখ্যা দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘রাজনীতি হলো ভাঙা-গড়ার খেলা। ওনারা রাজনৈতিক চাপে, মামলা মোকদ্দমার প্রচণ্ড রকমের চাপে রয়েছেন। চাকরি চলে যাবে, বেশির ভাগ মাদ্রাসায় চাকরি করেন। তারা টিকে থাকতে পারছেন না, যেতেই পারেন।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যাওয়ার সময় সত্য কথাগুলো বলে যাওয়াই ভালো। অযথা অন্যকে দোষারোপ করে একটা নজির সৃষ্টি করতে চান, এটা ঠিক না। আমাদের সঙ্গে তাদের কখনো কোনো সমস্যা হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘জোট গঠনের সময় ঘোষণাপত্রে ছিল- ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে একটা আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য একটা জোট। সেভাবে আন্দোলন করেই নির্বাচনে যাওয়ার একটা ব্যাপার ছিল।’
‘সেখানে শরিক যেকোনো দল তার নিজস্ব রাজনীতি করবে, নিজস্ব কথা বলবে। এখানে একটা দলের রাজনীতি আরেকটা দলের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার কোনো ব্যাপার নেই। প্রশ্নই উঠে না। সেখানে তারা (জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক) যে কথাগুলো বলেছেন, এ কথাগুলো একেবারেই সত্য নয়’ যোগ করেন বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, ‘জমিয়তের যে আমির ছিলেন নূর হোসাইন কাসেমী সাহেব; অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় মানুষ। ব্যক্তিগতভাবে আমি খুব শ্রদ্ধা করতাম। একজন সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক মানুষ বলতে যা বোঝায় তিনি সেরকমই ছিলেন।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তিনি বড় আলেম ও ইসলামি চিন্তাবিদও ছিলেন। তিনি মারা যাওয়াতেই সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’
তিনি বলেন, ‘ওনারা (জমিয়ত নেতৃবৃন্দ) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। অনেক দিন ধরে দেন-দরবার করছেন। শেষ পর্যন্ত এটা হয়েছে। যাই হোক এটা আমি বলতে চাই না। আমি বলছি তারা চাপে টিকতে পারছে না, সেজন্য ছেড়ে দিয়েছেন।’