ময়মনসিংহ মেডিকেলে করোনা ইউনিটে চলতি মাসে ২৫১ মৃত্যু

করোনা চিকিৎসায় বৃহত্তর ময়মনসিংহসহ আশপাশের কয়েকটি জেলার একমাত্র ভরসা স্থল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। তাই কম খরচে এবং মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পেতে করোনা আক্রান্ত রোগীরা এ হাসপাতালেই ছুটে আসেন। প্রতিদিনই হাসপাতালের করোনা ইউনিটে বাড়ছে রোগীর চাপ। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও।

রবিবার হাসপাতাল সূত্র জানায়, করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি জুলাই মাসে ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

রোগীর চাপ সামলাতে ও জনবল সংকটে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিনই রোগী বাড়তে থাকায় করোনা ইউনিটের ওয়ার্ড ও কেবিনে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় অনেকের ঠাঁই মিলছে বারান্দায়। তবে চিকিৎসা সেবা নিয়ে অনেকটাই সন্তুষ্ট রোগীর স্বজনরা।

করোনা ইউনিটের ৫ম তলার রোগীর স্বজন আনোয়ার হোসেন জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা দিতে খুবই আন্তরিক। চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কোনো কমতি নেই। সব ওষুধ হাসপাতালে পাওয়া যাচ্ছে এবং রোগীকে দেওয়া খাবারও মানসম্মত।

আরও পড়ুন...কোরবানির পশুরহাটে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি উদ্বেগজনক: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

অপর এক রোগীর স্বজন বিল্লাল হোসেন জানান, গত ৬দিন যাবৎ তার ভাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। প্রতিদিনই অসংখ্য রোগী নতুন করে ভর্তি হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্স রোগীর কাছে এসেই সেবা দিচ্ছেন। চিকিৎসকেরা নিয়মিত রোগীর খোঁজ খবর নিয়ে থাকেন। নার্সরা ২৪ ঘণ্টা ডিউটিতে থাকেন, যেকোনো সময় ডাকলেই তাদের পাওয়া যায়।

গ্রামাঞ্চলে করোনা স্বাস্থ্যবিধি না মানায় করোনা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, চলতি মাসের আক্রান্তের পরিসংখ্যানে দেখা যায় শহরের তুলনায় গ্রাম অঞ্চলের রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।

অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়ে করোনা ইউনিটের ফোকাল পারসন ডা. মহিউদ্দিন খান মুন জানান, করোনা ইউনিটে শয্যা সংখ্যা চাহিদা মোতাবেক বৃদ্ধি করা হচ্ছে। হাসপাতালে ওষুধসহ সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহে আপাতত কোনো সমস্যা নেই। অতিরিক্ত রোগীর চাপ থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের আন্তরিকতায় সাধ্যমতো চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। ভর্তিকৃত রোগীরা হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা পেয়ে আসছেন। চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে কারও কোনো অবহেলা নেই।

তিনি আরও জানান, সর্বশেষ রবিবার সকাল দশ টা পর্যন্ত ইউনিটে নতুন ৩৮ জন ভর্তিসহ সাধারণ ওয়ার্ডে ৪১১ জন এবং আইসিউতে ২২ জন করোনা রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী এ হাসপাতালে ২০ জন করোনা এবং করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতরা হলেন- ময়মনসিংহ ফুলপুর উপজেলার হাওয়া বেগম (৬০) ও নুরুল হক (৮৫), ভালুকা উপজেলার হেলেনা (৭৫), শেরপুর নালিতাবাড়ী উপজেলার মোস্তফা কামাল (৪৫), বৈশিষ্ট (৭০) ও আক্কাছ (৭৫) এবং নেত্রকোনা সদরের আনোয়ার হোসেন (৫৫)।

উপসর্গ নিয়ে যারা মারা গেছেন তারা হলেন- নেত্রকোনা সদরের শামসুল হুদা (৭৮), আমরোজ আলী (৭৫) ও সোনিয়া (৩২), কেন্দুয়া উপজেলার রমেলা (৫৫), মোহনগঞ্জ উপজেলার খোদেজা (৬৫), শেরপুর সদরের নুরুল ইসলাম (৮০), গেন্দাফুল (৩৫) ও সুইটি (২৬), ময়মনসিংহ সদরের শাহদত (৬৭) শামসুন নাহার (৬৫), জামালপুর সদরের জামিল হোসাইন (৪৫), ইসলামপুর উপজেলার জমিলা (৬০) এবং টাঙ্গাইল সদরের রহিমা খাতুন (৭০)।

সিভিল সার্জন ডা. নজরুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৭৫২ টি নমুনা পরীক্ষায় আরও ১৯৮ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ২৬.৩২ শতাংশ। জেলায় মোট আক্রান্ত ১১ হাজার ৪৯৫ জন। সুস্থ হয়েছেন ৮ হাজার ৩১৩ জন।