পাবনা মানসিক হাসপাতাল

১৬ করোনা রোগীকে চিকিৎসা না দিয়ে পাঠানো হলো বাড়ি!

পাবনা মানসিক হাসপাতালের ১৬ আবাসিক রোগীর করোনা শনাক্ত হয়েছে। রোগীদের পাশাপাশি হাসপাতালের তিন চিকিৎসক ও সাত নার্সের করোনা শনাক্ত হয়েছে। রবিবার দুপুরে হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ডা. মাসুদ রানা সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তবে জানা গেছে, আক্রান্ত আবাসিক রোগীদের হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ডা. মাসুদ রানা বলেন, হাসপাতালে প্রবেশ ও ব্যবস্থাপনায় কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের পরও চলতি মাসের শুরুর দিকে বেশ কয়েকজন ভর্তি রোগীর করোনা উপসর্গ দেখা দেয়। এদের ১৩ জন পুরুষ ও ৩ নারী। প্রথমে তাদের হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে নেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে বাকি রোগীদের নিরাপত্তার স্বার্থে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় করোনায় আক্রান্ত ১৪ জনকে তাদের বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। দু’জন রোগীকে হাসপাতালেই আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, বিশেষায়িত হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ নেই। এ কারণে তাদের বাড়ি পাঠানো হয়েছে। 

কোভিড-১৯ নেগেটিভ সনদ না থাকলে নতুন কোনো রোগীকে ভর্তি নেয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন ডা. মাসুদ রানা।

ডা. মাসুদ রানা আরো বলেন, উপসর্গ দেখা দেওয়ায় গত ১৩ জুলাই নমুনা পরীক্ষা করতে দেওয়া হলে ১২ জনের কোভিড-১৯ পজিটিভ আসে। রোগীর পাশাপাশি হাসপাতালের তিন চিকিৎসক ও সাত নার্সও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তারাও হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পাবনার সিভিল সার্জন ডা. মনিসর চৌধুরী বলেন, মানসিক হাসপাতালে রোগীদের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে করোনা পরীক্ষার কারিগরি সহায়তা চান। জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ থেকে পরীক্ষার জন্য সব উপকরণ ও সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে, সেখানে কতজন আক্রান্ত সে সম্পর্কে আমাদের কাছে তথ্য নেই। রোগীদের চিকিৎসার ব্যপারেও মানসিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই সিদ্ধান্ত নেবেন।

এদিকে করোনা আক্রান্ত হাসপাতালের আবাসিক মানসিক রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বিষয়টিকে কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা হিসেবেও মন্তব্য করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

পাবনার চিকিৎসক ডা. রামদুলাল ভৌমিক বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীরা এমনিতেই ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের চিকিৎসা না দিয়ে পরিবারের কাছে পাঠানোয় এসব রোগীসহ তাদের পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল আইনেরর সুস্পষ্ট লংঘন হয়েছে। মানসিক রোগীদের প্রতি সমাজের এমনিতেই অবহেলার দৃষ্টিতে দেখে,সেখানে দায়িত্বশীলদের এমন আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত।

তিনি আরো বলেন, যেহেতু রোগী ও চিকিৎসকদের মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে, কালক্ষেপণ না করে মানসিক হাসপাতালে কোভিড ইউনিট করা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে, কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেনারেল হাসপাতালের সহযোগিতা নিতে পারেন।

জেলা কোভিড ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও পাবনা জেলা প্রশাসক বিশ্বাস রাসেল রহমান বলেন, মানসিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি। শনাক্ত রোগীদের কেন বাড়িতে পাঠানো হয়েছে সে বিষয়ে খোঁজ নেয়া হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।