লাইফ সাপোর্টে ফকির আলমগীর

গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ভেণ্টিলেশন সাপোর্টে (লাইফ সাপোর্ট) নেওয়া হয়েছে। রবিবার রাত ১০টার দিকে তাকে ভেণ্টিলেশন সাপোর্টে নেওয়া হয়।

ফকির আলমগীরের ছেলে মাশুক আলমগীর রাজিব দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন। ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ফকির আলমগীর। বর্তমানে প্রফেসর ডা. ওমর ফারুক তার চিকিৎসা তত্ত্বাবধান করছেন।

রাজিব বলেন, 'বাবার শারীরিক অবস্থার একটু অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাকে ভেণ্টিলেশন সাপোর্টে নিয়েছে। আমরা সবার কাছে দোয়া চাই।'

গত বুধবার ফকির আলমগীরের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট ‘পজিটিভ’ আসার পর চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে তার জ্বর ও শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকায় রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ফকির আলমগীরের চিকিৎসার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে খোঁজ নেওয়া হয়েছে বলে জানান ফকির আলমগীরের স্ত্রী সুরাইয়া আলমগীর। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ ও বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া ফোন করে খবর নিয়েছেন। এ ছাড়া অনেকেই ফোন করে খবর নিচ্ছেন। সবার কাছে আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। অসংখ্য মানুষ দোয়া করছেন। সবাই যেভাবে খোঁজ নিচ্ছেন, তাতে সাহস পাচ্ছি।’

ষাটের দশক থেকে গণসংগীতের সঙ্গে যুক্ত ফকির আলমগীর। ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী ও গণশিল্পীগোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি যোগ দেন স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রে। স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে দেশজ সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের বিকাশে ভূমিকা রাখেন ৭১ বছর বয়সী এ শিল্পী। সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার ১৯৯৯ সালে ফকির আলমগীরকে একুশে পদক দেয়।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার কণ্ঠের বেশ কয়েকটি গান দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এর মধ্যে ‘ও সখিনা’ গানটি এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে। ১৯৮২ সালের বিটিভির আনন্দমেলা অনুষ্ঠানে গানটি প্রচারের পর দর্শকদের মাঝে সাড়া ফেলে। গানটি লিখেছেন আলতাফ আলী হাসু। কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি গানটির সুরও করেছেন ফকির আলমগীর।

ফকির আলমগীর সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা, গণসংগীত চর্চার আরেক সংগঠন গণসংগীতশিল্পী পরিষদের সাবেক সভাপতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করা ফকির আলমগীর গানের পাশাপাশি নিয়মিত লেখালেখিও করেন। ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বিজয়ের গান’, ‘গণসংগীতের অতীত ও বর্তমান’, ‘আমার কথা’, ‘যারা আছেন হৃদয় পটে’সহ বেশ কয়েকটি বই প্রকাশ হয়েছে তার।