ঈদুল আজহা উদ্যাপনে উত্তরবঙ্গে ঘরে ফেরা মানুষের ঢল নেমেছে। ফলে সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে যানবাহনের ব্যাপক চাপ বেড়েছে। এতে এ মহাসড়কের ৩টি পয়েন্টে যানবাহনেরযানবাহনের ধীর গতি দেখা গেছে।
পরিবহন সংকটে ঘরে ফেরা মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, মাইক্রোবাস, পিকআপভ্যান ও মোটরসাইকেলে রওনা দিয়েছে। ফলে চালক ও যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ভোগান্তি বেড়েছে সবচেয়ে বেশি।
অপরদিকে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকামুখী পশুবাহী ট্রাক দীর্ঘ সময় পথে আটকা পড়ে থাকায় ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
মঙ্গলবার সকাল থেকে হাটিকুমরুল-বগুড়া মহাসড়কের চান্দাইকোনা এলাকায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় শত শত যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, পিকআপ-ভ্যান, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে করে ঘরে ফেরা মানুষের দুর্ভোগ দেখা যায়।
আশুলিয়ার জিরানী বাজার থেকে গার্মেন্টস কর্মী আঁখি খাতুন বলেন, তার বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলায়। পরিবারের সাথে ঈদ করতে তিনি বাড়ি যাচ্ছেন। তার বৃদ্ধ বাবা তার জন্য পথ চেয়ে বসে আছেন। পথে আটকা পড়ায় তিনি দুশ্চিন্তায় বারবার ফোন করছেন।
একই জেলার কোহিনূর খাতুন জানান, তার শ্বশুর-শাশুড়ি ও বাবা-মাকে সাথে নিয়ে ঈদ করতে বাড়ি যাচ্ছেন।
নীলফামারীর রফিকুল ইসলাম টেক্সটাইল মিলের শ্রমিক স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। বাড়িতে বাবা-মা ও ভাইদের নিয়ে ঈদ করবেন ও কোরবানি দেবেন। তিনি বাড়ি ফেরার পর গরু কেনা হবে। পথে দেরি হওয়ায় পরিবারের লোকেরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
নীলফামারী সদরের আবুল হোসেন পেশায় হোটেল শ্রমিক। তিনি বলেন, ঢাকায় সারা বছর হোটেলে কাজ করি। যা কিছুই হোক না কেন বছরে দুই ঈদে গ্রামের বাড়ি যাই। ঈদের আনন্দ যদি আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে ভাগাভাগি না করতে পারি, তাহলে ঈদকে ঈদই মনে হয় না।
বাড়ি ফিরতে থাকা নিম্ন আয়ের একাধিক শ্রমজীবী মানুষ জানান, তাদের কেউ আশুলিয়া, কেউ জামগড়া, কেউ জিরানী বাজার ও বাইপাইল থেকে পিকআপ ও ট্রাকে চড়েছেন। বাসে ভাড়া বেশি হওয়ায় টাকা বাঁচাতে তারা খোলা পিকআপ ও ট্রাকে চড়েই রওনা হয়েছেন। রাত ১০ টার দিকে রওয়ানা দিয়ে সকাল সাড়ে ১০ টায় সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল এসে পৌঁছেছেন। রাস্তায় যানজটের কারণে ৩ ঘণ্টার পথ আসতে ১০ ঘণ্টা সময় লেগেছে। পুরো যাত্রাপথে কখনো টানা রোদ আবার কখনো বৃষ্টির কবলে পড়তে হয়েছে।
দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে বাড়ি ফেরা এ সব যাত্রীরা বলেন, ঢাকায় কার সঙ্গে ঈদ করব! ওখানে তো শুধু কাজের জন্য থাকা। আত্মীয়-স্বজনরা তো এলাকায় থাকেন। আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে কোরবানি দেওয়ার মজাই আলাদা।
পিকআপ ভ্যান চালক শফিকুল ইসলাম বলেন, যাত্রীদের মধ্যে কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী জেলার যাত্রী রয়েছে। ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা ভাড়ায় রওনা দিয়েছি। বাসের ভাড়া ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। স্বল্প খরচে যেতেই আমাদের পরিবহনে উঠেছে এ সব যাত্রীরা। ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বপাড় মহাসড়কের যানজট কাটিয়ে এ পর্যন্ত এসেছি। কখন গন্তব্যে পৌঁছাব জানি না।
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার ওসি মোসাদ্দেক হোসেন জানান, বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। মুলিবাড়ি, কড্ডা ও নলকা সেতু এলাকায় কিছুটা ধীর গতি রয়েছে।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি শাহজাহান আলী বলেন, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ থাকায় হাটিকুমরুল-বগুড়া মহাসড়কের চান্দাইকোনা এলাকায় প্রায় ৬ কিলোমিটার যানজট দেখা দিয়েছে। হাটিকুমরুল হাইওয়ে পুলিশ এ যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, শেষ মুহূর্তে পরিবারের সাথে ঈদ উদ্যাপনে যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, পিকআপ-ভ্যান, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে চেপে বাড়ি ফিরছে উত্তরবঙ্গের মানুষ। ফলে হাটিকুমরুল গোলচত্বর ও কড্ডা এলাকায় কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে কোথাও বড় ধরনের যানজট নেই।