রাত পোহালেই শুরু ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ

শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে শুরু হচ্ছে দুই সপ্তাহব্যাপী কঠোর বিধিনিষেধ। ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিধিনিষেধ শিথিল করা হলেও এবার তা কঠোরভাবে পালিত হবে বলে সরকার জানিয়েছে। 

করোনা পরিস্থিতিতে এবারের বিধিনিষেধ আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে কঠোর হবে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

কেরবানির ঈদের জন্য নয় দিন লকডাউন শিথিলের পর শুক্রবার থেকে পুনরায় বিধিনিষেধ আরোপ হবে, চলবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত।

সংবাদমাধ্যমকে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ সময়ে সবচেয়ে কঠোরতম অবস্থানে আমরা থাকব। এছাড়া আমাদের উপায় নেই। কারণ ঈদের আগে মুভমেন্টটা বেশি হয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এর বিকল্প নেই।

গত ১৩ জুন বিধিনিষেধ আরোপ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ওই আদেশে ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছিল ঈদের কারণে।

এবার ঈদের ছুটির পরপরই কঠোর লকডাউন শুরু হওয়ায় দেখা গেছে কিছু ভিন্ন চিত্র। ঈদের পরদিনও ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে যাত্রীদের। গরু বহনকারী গাড়ি চলাচলও ছিল। এ ছাড়া লঞ্চ ও বাসে প্রচুর যাত্রী ঢাকা ফিরেছেন। 

লকডাউন নিয়ে চিন্তায় আছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। আগের লকডাউনে পোশাকসহ শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকলেও এবার এসবও বন্ধ থাকছে। 

দেশে করোনায় মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দুঃশ্চিন্তা রয়েছে সর্বত্র। আগস্টে এই মহামারী ভয়াবহ রূপে দেখা দিতে পারে বলে শংকা সংশ্লিষ্টদের। ইতিমধ্যে রাজধানীর হাসপাতালে আইসিইউ খালি নেই বলে খবর প্রকাশ হয়েছে। এসব হাসপাতালে ভর্তি রোগীর বেশিরভাগই গ্রাম থেকে আসা। বিশেষত সীমান্ত এলাকায় করোনা ও এর উপসর্গ ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে কঠোর লকডাউন মেনে চলার বিকল্প নেই বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা। ইতিমধ্যে দেশে বিভিন্ন উৎস থেকে টিকা এসেছে। লকডাউন সফল করার পাশাপাশি গণটিকাদান কর্মসূচি চালিয়ে যেতে পারলে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে বলে মনে করছেন তারা।  

কঠোর ‌বিধিনিষেধের আওতায় থাকছে

১) সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।

২) সড়ক, রেল ও নৌ-পথে গণপরিবহন (অভ্যন্তরীণ বিমানসহ) ও সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
৩) শপিং মল/মার্কেটসহ সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে।

৪) সব পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে।

৫) সব ধরনের শিল্প-কলকারখানা বন্ধ থাকবে।

৬) জনসমাবেশ হয় এ ধরনের সামাজিক বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান (ওয়ালিমা), জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

৭) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।

৮) ব্যাংক-বিমা/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।

৯) সরকারি কর্মচারীরা নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন এবং দাপ্তরিক কাজগুলো ভার্চ্যুয়ালি (ই-নথি, ই-টেল্ডারিং, ই-মেইল, এসএমএস, হোয়াটঅ্যাপসহ অন্যান্য মাধ্যম) সম্পন্ন করবেন।