জুন ও জুলাই মাসে বৈশ্বিক ইন্টারনেট থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখার পরীক্ষা সফলভাবে পরিচালনার দাবি করেছে রাশিয়া। গত বৃহস্পতিবার রুশ দৈনিক আরবিসি রাশিয়ার ইন্টারনেট নিরাপত্তা উন্নত করার কাজে নিয়োজিতদের নথির বরাতে এ খবর জানিয়েছে।
২০১৯ সালে সার্বভৌম ইন্টারনেট নামের একটি আইন প্রণয়ন করে রাশিয়া। এই আইনের আওতায় বিদেশি অবকাঠামো থেকে রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করা হলে নিজেদের সক্রিয়তা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কৌশলের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপকে আগ্রাসী
প্রকৃতির বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
রয়টার্স জানায়, পরীক্ষায় রাশিয়ার বৃহৎ টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলো জড়িত ছিল। ১৫ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত সফলভাবে এই পরীক্ষা চালানো হয় বলে কাজে নিয়োজিত গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে। এক সূত্র জানায়, এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য হলো বাহ্যিক ব্লক, বাধা ও অন্যান্য হুমকির মোকাবিলায় ‘রুনেট’-এর সক্ষমতা যাচাই করা। আরেকটি সূত্র আরবিসিকে জানায়, বিচ্ছিন্ন করার পর রাশিয়ার ভূখণ্ডে ইন্টারনেটের পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এই ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা কত দীর্ঘ ছিল এবং ইন্টারনেট ট্রাফিকে বড় ধরনের কোনো বিঘœ ঘটেছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এই পরীক্ষার বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের কার্যালয় অবগত ছিল বলে জানিয়েছেন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। তিনি এই পরীক্ষাকে সময়োপযোগী এবং রাশিয়াকে যেকোনো কিছুর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে উল্লেখ করেছেন। রাশিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, বৈশ্বিক ইন্টারনেট থেকে এক বছর বিচ্ছিন্ন থাকার প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়েছিল পুতিনের প্রশাসন। কিন্তু মহামারী পরিস্থিতির কারণে ওই সময়সীমা কমিয়ে এক মাসে আনা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সংশয় প্রকাশ করে বলছেন যে, রাশিয়া বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবস্থা থেকে নিজেদের আড়াল করা প্রযুক্তি তৈরিতে কতটা সমর্থ হয়েছে তা এখনো বলা যাচ্ছে না।
প্রসঙ্গত, এমন পরীক্ষা চালানোর কথা এর আগে ভেবেছিল পরাশক্তিধর রাষ্ট্র চীন। দেশটি এখনো সফল না হলেও, বিষয়টি নিয়ে অনেকদূর এগিয়েছে শি চিনপিং প্রশাসন। সম্প্রতি পেইচিংয়ের কর্মকর্তারা এক ঘোষণায় বলেছিলেন, ইন্টারনেট দিয়ে বিশ্ব শাসনের দিন শেষ হতে চলেছে।