অষ্টম শ্রেণি : শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য

দ্বিতীয় অধ্যায় : স্কাউটিং, গার্ল গাইডিং ও বাংলাদেশ

রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি

সাধারণ প্রশ্ন

১. প্রাথমিক চিকিৎসা অনেক মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারে ব্যাখ্যা করো।

ডাক্তার আসার আগে বা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার আগে রোগীর অবস্থার যাতে আর অবনতি না হয় সেজন্য রোগীকে যে চিকিৎসা করা বা সাহায্য করা হয় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা বলে। প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক মানুষের জীবন রক্ষা করা যায়। কোনো দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তির প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে, তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার আগে যদি রক্তক্ষরণ বন্ধ করা যায় তবে আহত ব্যক্তির জীবন বাঁচানো যাবে। আহত ব্যক্তিকে সর্বপ্রথম যে সাহায্য করা হয়, তা-ই প্রাথমিক চিকিৎসা। এই প্রাথমিক চিকিৎসার জনক হচ্ছেন ‘ডাক্তার ফ্রেডিক এজমার্ক’, পেশায় যিনি ছিলেন একজন শল্যচিকিৎসক। প্রাথমিক চিকিৎসা হচ্ছে বিজ্ঞানসম্মত সেই শিক্ষা, যা আয়ত্তে থাকলে আকস্মিক কোনো দুর্ঘটনায় সাহায্য করতে পারে। যাতে রোগীর জীবন রক্ষা পায়। প্রাথমিক চিকিৎসা জানা থাকলে দুর্ঘটনার ক্ষতির পরিমাণকে অনেকটা কমানো যায়। তবে অবশ্যই মনে রাখতে হবে প্রাথমিক চিকিৎসক যেন অভিজ্ঞ ডাক্তারের ভূমিকা পালন না করে। প্রাথমিক চিকিৎসকের কাজ হচ্ছে মূলত ৩টি

১. রোগ নির্ণয়, ২. চিকিৎসা,  ৩. স্থানান্তর

আমাদের প্রত্যেকেরই প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন। যাতে আমরা কোনো দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দিতে পারি। যাতে আহত ব্যক্তির জীবন রক্ষা পায়।

কোনো দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে মানুষের হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। এ সময় প্রাথমিক চিকিৎসক বা প্রতিবিধানকারীকে স্থির থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করলে অনেক মানুষের জীবন বেঁচে যেতে পারে।

২. ব্যান্ডেজ কাকে বলে? ড্রেসিং করার পদ্ধতি আলোচনা করো।

ভূমিকা

প্রাথমিক প্রতিবিধানের ক্ষেত্রে ব্যান্ডেজ ও ড্রেসিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দুর্ঘটনার পর বড় ধরনের ক্ষতি থেকে বাঁচতে ব্যান্ডেজ ও ড্রেসিংয়ের বিকল্প নেই।

ব্যান্ডেজ

ড্রেসিংকে ক্ষতস্থানে বেঁধে রাখার জন্য যে সাদা কাপড় ব্যবহার করা হয় তাকে ব্যান্ডেজ বলে। ব্যান্ডেজ এমনভাবে করা হয় যেন পুরো ড্রেসিংটাকে ধরে রাখতে পারে।

ড্রেসিং

ক্ষতস্থান ঢেকে রাখার জন্য যে গজ, ব্যান্ডেজ, তুলা ব্যবহার করা হয় তাকে ড্রেসিং বলে।

ড্রেসিং করার পদ্ধতি

ড্রেসিং করার সময় কতগুলো বিষয় সব সময় অনুসরণ করতে হবে। যেমন

১. রোগীকে শুইয়ে ক্ষতস্থান সামনে তুলে ধরতে হবে।

২. আহত স্থানের নিচে পরিষ্কার কাপড় পেতে দিলে ভালো হয়।

৩. সেবাদানকারীকে তার নিজের হাত দুটি পরিষ্কার করে নিতে হবে।

৪. জীবাণুমুক্ত তুলা দিয়ে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করতে হবে।

৫. ক্ষতের চারপাশ স্পিরিট বা ডেটল দিয়ে দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

৬. ক্ষতস্থান পরিষ্কার করার সময় কেন্দ্রের দিক থেকে পরিষ্কার করতে হবে, যাতে কোনো ময়লা ক্ষতস্থানে গড়িয়ে না আসে।

৭. ক্ষতে কখনো হাত লাগাতে নেই।

৮. অ্যান্টিসেপটিক পাউডার বা মলম জীবাণুমুক্ত তুলা বা গজে লাগিয়ে ক্ষতস্থানে চাপা দিলে ভালো হয়।

৯. টিংচার আয়োডিন, স্পিরিট, পটাশ পারম্যাংগানেট প্রভৃতি কোনো ক্ষতে ব্যবহার করা ঠিক নয়। এতে টিস্যুগুলোর ক্ষতি হয়।

১০. প্রাথমিক প্রতিবিধানকারীর ব্যাগে সব সময় তুলা, গজ, ব্যান্ডেজ, কাঁচি, কিছু ওষুধ প্রভৃতি রাখা দরকার।

পরিশেষে আমরা বলতে পারি, বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ওপরের পদ্ধতি প্রয়োগ করে যত দ্রুত সম্ভব ড্রেসিং করতে হবে।