সিরিজ নির্ধারণী টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে ১৯৪ রানের বড় লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে জিম্বাবুয়ে।
রবিবার হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস জিতে ব্যাটিং বেছে নেয় জিম্বাবুয়ে। ওয়েসলি মাধেভেরে ও রেজিস চাকাভা ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন। বাংলাদেশের বোলাররা তাই শুরু থেকেই ছিল ছন্নছাড়া।
শেষ দিকে রায়ান বার্লও খেলেছেন ঝোড়ো ইনিংস। সুবাদে স্বাগতিকেরা পেয়ে গেছে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি।
মাধেভেরে ৩৬ বলে ৬ চারে দলীয় সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন। চাকাভা ২২ বলে ৬ ছক্কায় করেন ৪৮ রান। শেষ দিকে বার্ল ১৫ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় অপরাজিত ৩১ রান করেন।
তাদিওয়ানশে মারুমানিকে নিয়ে ইনিংস ওপেন করতে নামেন মাধেভেরে। দুজনেই দারুণ শুরু পান। ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে বিচ্ছিন্ন হন দুজন। পাওয়ার প্লের ওভারগুলোতে তাতে ৬৩ রান উঠে যায় স্বাগতিকদের। চাকাভা ও মাধেভেরের দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আসে ৩১ বলে ৫৯ রান। তাতেই শক্ত ভিত পেয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। ৯.৩ ওভারে দলীয় ১০০ পূরণ করা জিম্বাবুয়ে শেষ ৫ ওভারে তুলেছে ৪৭ রান।
৩ ওভারে ১৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে সফল বোলার সৌম্য সরকার। শরিফুল ৪ ওভারে ২৭ রান খরচায় নিয়েছেন ১ উইকেট। সাকিব ৪ ওভারে ২৪ রান খরচায় ১ উইকেট নেন।
তাসকিন আহমেদ ২ ওভারে ২৮ রান খরচা করেন। তাই পরে আর তাকে আক্রমণেই আনেননি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ।
সাইফউদ্দিন ৪ ওভার বল করে ৫০ রান খরচ করে পেয়েছেন মাত্র ১ উইকেট। মেহেদী হাসানের পরিবর্তে একাদশে আসা নাসুম আহমেদ ৩ ওভারে ৩৭ রান খরচ করেন।
মারুমানি ও মাধেভেরে শুরু থেকেই ছিলেন আগ্রাসী। শরিফুল ইসলামের তৃতীয় ওভারের শেষ দুই বলে পর পর চার ও ছক্কা হাঁকান মারুমানি।
তাসকিন আহমেদের করা ইনিংসের চতুর্থ ওভারে টানা পাঁচটি বাউন্ডারি তুলে নেন মাধেভেরে। তাতে জিম্বাবুয়ের স্ট্রাইক রেট পৌঁছে যায় ১২-তে।
ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে মারুমানিকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তার মিডল স্টাম্পে থাকা লেংথ বল লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে লাইন মিস করেন মারুমানি। ফিরতে হয় বোল্ড হয়ে। ২০ বলে ২টি করে চার ও ছক্কা হাঁকিয়ে ২৭ রান করেন তিনি।
তবে চাকাভা উইকেটে এসেই শটস খেলতে শুরু করেন। তাতে দ্রুতই এক শ পূরণ করে ফেলে জিম্বাবুয়ে।
১২তম ওভারের প্রথম বলে সৌম্যর শিকার হন চাকাভা। বাউন্ডারি লাইনে যাকে ক্যাচে পরিণত করার পুরো কৃতিত্ব মোহাম্মদ নাঈমের। ক্যাচ মুঠোয় পুরে যখন শরীরের ভারসাম্য রাখতে পারছিলেন না, ঠিক তখনই বলটা ছুড়ে দেন তিনি সতীর্থ শামীম হোসেনের দিকে। শামীম সেটি তালুবন্দী করতে ভুল করেননি।
চাকাভা ২২ বলে ৪৮ রান করেছেন ৬ ছক্কায়। মাধেভেরের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে মাত্র ৩১ বলে উপহার দিয়েছেন ৫৯ রানের জুটি। এরপর সৌম্যর ওই ওভারেই সিকান্দার রাজা এসে শূন্য রানে ফিরে যান।
তবে মাধেভেরে ফিফটি তুলে নেন। ১৬তম ওভারে সাকিব আল হাসানের শিকার হন তিনি। ফেরার আগে মেয়ার্সের সঙ্গে গড়েন ২১ রানের জুটি।
পরে বার্ল ও ডিওন মেয়ার্স পঞ্চম উইকেটে ১৮ বলে ২৯ রান যোগ করেন। বার্ল ও লুক জঙ্গুয়ের ষষ্ঠ উইকেটে আসে ১৮ রান।
প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি ৮ উইকেটে জিতেছিল বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ম্যাচ ২৩ রানে জিতে সিরিজে সমতা ফেরায় জিম্বাবুয়ে।
এর আগে একমাত্র টেস্টে হারের পর তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও হোয়াইটওয়াশ হয় জিম্বাবুয়ে।