গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ৪২ জন রোগী।
হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. তাজউদ্দীন জানান, সোমবার পর্যন্ত হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১২৭। তাদের মধ্যে এইচডিইউ শয্যায় আছেন দুজন, আইসিইউ শয্যায় আছেন আটজন।
তিনি আরও জানান, ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ৪২ জন। আর জেলায় ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৫৭ জনের। মারা গেছেন সাতজন।
গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনটি ফ্লোরে ১০০ শয্যা বরাদ্দ করা হয়েছে করোনা রোগীদের জন্য। সোমবার পর্যন্ত ১০০ শয্যার করোনা ইউনিটে ভর্তি আছে ১২৭ জন। প্রতিদিনই বাড়ছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা।
হাসপাতালের পরিচালক মো. হাফিজ উদ্দিন বলেন, শয্যার চেয়ে রোগী বেশি হলেও কাউকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে না। আলাদা সিলিন্ডার দিয়ে হাসপাতালের বারান্দায় রেখে হলেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, করোনায় আক্রান্ত হয়ে যারা হাসপাতালে ভর্তি হতে আসেন, তাদের প্রায় সবাই গুরুতর অবস্থায় আসেন। তাই সবার জন্যই অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। শয্যার সঙ্গে অক্সিজেন না থাকলে করোনা রোগীর মৃত্যুঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে। তাদের হাসপাতালের ৬ হাজার লিটার গ্যাস মজুত রাখার সক্ষমতা থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম জানান, গাজীপুরে ২৪ ঘণ্টায় ৩৮০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৯৮ জনের করোনা পজিটিভ হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। আক্রান্তের হার নমুনা পরীক্ষার ৫২ দশমিক ১০ শতাংশ। জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন মোট ১৬ হাজার ৭৪০ জন। এ পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১৬ জনে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া সব শেষ তথ্যমতে, লকডাউনের মধ্যেই গত তিন দিনে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। ২৫ জুলাই ৩৮০ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৯৮ জনের। শনাক্তের হার ছিল ৫২ দশমিক ১০ শতাংশ। মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। ২৪ জুলাই ১৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয় ৬৯ জনের এবং মারা যান একজন। শনাক্তের হার ৩৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। ২৩ জুলাই ১৩৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয় ৪৮ জনের। মারা যান পাঁচজন। শনাক্তের হার ৩৫ দশমিক ২৯ শতাংশ।