নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এইচআর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনের ভেতরে শুটিংয়ের কথা বলে চুক্তিতে এনে এক তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার বিকেলে এ ঘটনায় ওই তরুণী বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করে।
রবিবার রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়ন ব্রাহ্মনখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, একটি শর্টফিল্মে অভিনয় করার জন্য টঙ্গী আব্দুল্লাহপুর এলাকা থেকে টিকটকে অভিনয় করা এক তরুণীর সঙ্গে (১৮) চুক্তি করে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া এলাকার সালাম মিয়া নামে এক ব্যক্তি। পরে তাকে মোবাইল নাম্বার দিয়ে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ব্রাহ্মনখালী এলাকায় পাঠায় সে। তরুণী রাত ৮টার দিকে হাবিব নগর এলাকায় রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হারেজের প্রতিষ্ঠিত এইচআর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে এলে প্রতিষ্ঠানের কেয়ারটেকার জামাল হোসেন তাকে রিসিভ করে। পরে উক্ত প্রতিষ্ঠানে তৃতীয় তলায় সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হারেজের বিশ্রাম কক্ষে নিয়ে বসায়। সেখানে পূর্ব থেকে বসা ছিল হারেজের ড্রাইভার ও তার বাড়ির ভাড়াটিয়া নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার সুখদেবপুর গ্রামের আবু হানিফ ও হারেজের ভাতিজা আয়নাল হক। এ সময় শুটিংয়ের কোনো আলামত দেখতে না পেয়ে সে চলে যেতে উদ্যত হলে তারা উভয়ে তরুণীর মুখ বেঁধে ওই কক্ষেই তালাবন্ধ করে রাখে।
অভিযোগে জানা যায়, পরে রাত ১০টা থেকে সোমবার ভোররাত ৩টা পর্যন্ত পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে সেখানেই ফেলে রেখে যায় অভিয়ুক্তরা। পরে জামাল রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাকে বের করে দিলে তরুণী ছাড়া পেয়ে ৯৯৯ এ ফোন করে। ভোলাবো ফাঁড়ি পুলিশ ও রূপগঞ্জ থানা পুলিশ সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে এবং কেয়ারটেকার জামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।
এ ঘটনায় সে তরুণী বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় গণধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন।
এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, ৯৯৯ এ বার্তা পেয়ে আমরা ভিকটিমকে উদ্ধার করি এবং এ ঘটনায় অভিযুক্ত জামালকে আটক করি। এ ব্যাপারে সে তরুণী বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন। অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।