অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনাভাইরাসরোধী টিকার ব্যবস্থা করতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মানবাধিকার সংঠন ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশনের (এলএলএফ) পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব ও মোহাম্মদ কাউছার এ নোটিস পাঠান। স্বাস্থ্য সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং আইইডিসিআরের পরিচালকের উদ্দেশ্যে ই-মেইলে এ নোটিস পাঠানো হয়েছে। নোটিসপ্রাপ্তির পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া না হলে প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলে জানান ব্যারিস্টার পল্লব।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩৫ লাখ নারী অন্তঃসত্ত্বা হন। অর্থাৎ ৩৫ লাখ অন্তঃসত্ত্বা নারী আরও ৩৫ লাখ মানুষের অস্তিত্ব বহন করেন। কিন্তু করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং শিশুরা মারা যাচ্ছেন। সঠিকভাবে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকার ব্যবস্থা করা গেলে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব। গবেষণা অনুযায়ী অন্তঃসত্ত্বা নারীরা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার অধিক ঝুঁকির মধ্যে থাকেন এবং কোনো কারণে আক্রান্ত হলে তাদের এবং শিশুর জীবন বিপদাপন্ন হয়ে পড়ে। আইনজীবী বলেন, বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অন্তঃসত্ত্বাদের করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশে^র বিভিন্ন দেশে অন্তঃসত্ত্বাদের ফাইজার ও মডার্নার উৎপাদিত কভিড ভ্যাকসিন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওই সব দেশে অন্তঃসত্ত্বা নারীরা টিকা নেওয়ার পর তেমন কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
হুমায়ুন কবির পল্লব বলেন, অত্যন্ত দুঃখের বিষয় সরকারের নির্ধারিত করোনা ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশনের সুরক্ষা অ্যাপে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের নিবন্ধন করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। অথচ তাদের চেয়েও কম ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্তঃসত্ত্বাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনা টিকা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তাদের অগ্রাধিকারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করা একটি নিপীড়নমূলক, বৈষম্যমূলক ও তাদের জীবনধারণের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।