সুন্দরবনে বাঘের বসবাসের অনুকূল পরিবেশ নেই বলে উল্লেখ করেছেন বাপা ও সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) উদ্যোগে আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস-২০২১ উদ্যাপন উপলক্ষে 'বাঘ দিবসে বাঘের গল্প" শীর্ষক ওয়েবিনার তিনি এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাপা সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল।
ওয়েবিনারে আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন, বাপা’র বন,জীববৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক সম্পদ ও জ্বালানি বিষয়ক কমিটির সহ-আহ্বায়ক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুল হাসান খান, অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ, যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি সাংবাদিক মোহসীন-উল হাকিম, স্থানীয় বনজীবী বেলায়েত সরদার, পশুর রিভার ওয়াটারকিপারের নূর আলম শেখ, ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিমের নান্টু গাজী, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আহাদ হায়দার প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে সুলতানা কামাল বলেন, সুন্দরবনে বাঘের বসবাসের অনুকূল পরিবেশ নেই। সুন্দরবন বাঁচলে বাঘ বাঁচবে। বাঘ আমাদের সাহস, শক্তি ও সংস্কৃতির পরিচয়। এটিকে সংরক্ষণ করাও আমাদের দায়িত্ব। সরকার কখনো বাঘকে রক্ষায় গুরুত্ব দেয়নি।
জাতিসংঘ সরকারদের একটি ক্লাবে পরিণত হয়েছে বলে তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন। সেখানে জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার কোনো মূল্যায়ন হয় না বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি সুন্দরবনকে বাঘের বসবাস উপযোগী করার দাবি জানান।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭২ সালের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ 'আমরা গাছ লাগাইয়া সুন্দরবন পয়দা করি নাই' এ কথা উল্লেখ করে সুলতানা কামাল বলেন, বঙ্গবন্ধুর বক্তব্যে সুন্দরবনকে 'স্বাভাবিক অবস্থায় প্রকৃতি এটাকে করে দিয়েছে বাংলাদেশকে রক্ষা করার জন্য' এ কথার মর্মার্থ অনুধাবনের আহ্বান জানান।
মোহসীন-উল হাকিম বলেন, সুন্দরবন এবং এ বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে কোন শক্ত ভূমিকা নাই। তিনি বন বিভাগের নজরদারি বাড়ানোর প্রতি সরকারের নিকট আবেদন জানান। ওয়েবিনারে স্থানীয় বনজীবী বেলায়েত সরদার নিজের বাঘ দেখার অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেন।
সবার গল্পে বাঘ এবং সুন্দরবনের প্রতি স্থানীয় মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রতিফলিত হয়। আজকের ওয়েবিনারে সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরা, বাঘের সংখ্যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম বৃদ্ধি পাওয়া, বাঘ খাদ্যের অভাবে লোকালয়ে চলে আসা এবং সুন্দরবনের অদূরে অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ইত্যাদি বিষয় উঠে আসে। একই সঙ্গে বক্তারা সুন্দরবন এবং বনের জীব বৈচিত্র্য রক্ষার দাবি জানান।