করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে কঠোর বিধিনিষেধের অষ্টম দিনে সকাল থেকেই রাজধানীর বেশির ভাগ সড়কে মানুষের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। তবে ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল, সিএনজি ছিল চোখে পড়ার মতন। সবচেয়ে বেশি আধিক্য ছিল রিকশার।
শুক্রবার সকালে নগরীর বিজয় সরণি, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, কাকরাইল, গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রধান সড়কগুলোতে ব্যারিকেড দিয়ে তল্লাশি চৌকি বসানো থাকলেও সেখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি ছিল না। সকাল থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে যারা বের হয়েছেন তাদের তেমন জেরার মুখেও পড়তে দেখা যায়নি। তবে, বিগত দিনগুলোর তুলনায় সাধারণ জনগণের পাশাপাশি রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা ছিল খুব কম।
এদিন সকালে রাজধানীর বিজয় সরণিতে কোনো ব্যারিকেড চোখে পড়েনি। এ ছাড়া ফার্মগেটসহ কারওয়ান বাজার এলাকায় পুলিশের তৈরি ব্যারিকেড থাকলেও সেখানে কোনো পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। যাত্রাবাড়ী এলাকায় দেখা যায় রাইড শেয়ারিং অ্যাপস বন্ধ থাকলেও সেখানে মোটরসাইকেল চালকদের অনেকেই চুক্তিতে আরোহী বহন করছেন। অসংখ্য রিকশা যাত্রীর আশায় বসে থাকলেও যাত্রী তেমন ছিল না। এ ছাড়া অনেককে ভ্যানে চড়েও যাতায়াত করতে দেখা যায়।
কথা হয় মোটরসাইকেল নিয়ে বের হওয়া ইমরান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অসহায় না হইলে কে আসে পুলিশের বাড়ি খেতে! অনেক দিন ধরে বাসায় বসা। বাসা ভাড়া কীভাবে দেব তার কোনো ঠিক নাই। মোটরসাইকেল নিয়ে না বের হলে কি খাব?
রাজধানীর শাহবাগে মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, ১৫টির বেশি রিকশা দাঁড়িয়ে আছে। দু-একজন ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে হাঁটলেও কেউ গন্তব্যে যেতে রিকশা ব্যবহারে আগ্রহী ছিল না। ঠাকুরগাঁওয়ের রিকশা চালক আমীর উদ্দিন নিজের রিকশায় বসেই বিশ্রাম নিয়ে নিচ্ছেন। লকডাউনে রিকশা চালাইতে ঝামেলা হয় না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হইছিল কয়েক দিন। প্রথমে তো ভয়তেই বাইর হই নাই। পরে আস্তে আস্তে সবাই হয় আমিও হলাম।’ বৃষ্টি আর যাত্রী কম থাকার কারণে আজ তেমন উপার্জন হয় নাই বলে জানান তিনি।
করোনাভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণ হারের কারণে কোরবানি ঈদের পরদিন ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত কঠোর লকডাউনে শিল্প কারখানা, সরকার-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সব ধরনের অফিস আদালত বন্ধ রাখা হয়। চলমান কঠোর লকডাউনের মধ্যেই ১ আগস্ট থেকে রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানা খোলা রাখার অনুমোদন দিয়েছে সরকার।