নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় শান্তা আক্তার (২০) নামে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গৃহবধূর শ^শুরবাড়ির লোকজনের দাবি ফাঁস নিয়ে আতœহত্যা করেছেন। আর মৃত্যুকে ঘিরে সন্দেহ পোষণ করছেন নিহতের বাবা মানিক আলী।
শনিবার সকাল ১০টার দিকে গৃহবধূর মৃতদেহ স্বামীর বসতঘর থেকে উদ্ধারের পরে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে কলমাকান্দা থানা পুলিশ।
নিহত শান্তা আক্তার উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়নের ভারতীয় সীমান্তবর্তী চেংগ্নী গ্রামের কামাল মিয়ার স্ত্রী এবং তিনি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলার হারিনা গ্রামের মানিক আলীর মেয়ে।
জানা যায়, শান্তার আক্তারের সাথে গত এক বছর পুর্বে সামাজিকভাবে বিয়ে হয় লেংগুরা ইউনিয়নের চেগ্নী গ্রামের আসাদ মিয়ার ছেলে কামাল মিয়ার সাথে।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় গৃহবধূর শাশুড়ি দেখতে পান শান্তা আক্তার স্বামীর ঘরে ধর্নার সাথে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলে আছে।ডাক-চিৎকার দিলে পরিবারের
অন্যান্য সদস্যরাসহ বাড়ির আশপাশের লোকজন জড়ো হয়। খবর পেয়ে ওই দিন দিনগত রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
নিহত গৃহবধূর বাবা মানিক আলী জানান, স্বামীসহ মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য মারধর করতেন। এ নিয়ে সময়ে সময়ে ফোনে জানাতেন।
সর্বশেষ গত শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে মেয়ে তার বাবাকে মারধরের কথা জানান। পরে ফোন কেটে মেয়ের শ^শুর আসাদ মিয়াকে ফোন দেন তিনি।
‘মারধরের বিষয়টি জানাতে চাইলে তিনি আমাকে জানান এটা আমাদের পারিবারিক বিষয়। এটা নিয়ে আপনি বা আপনারা কেউ কথা বলবেন না। বিষয়টি আমি দেখতেছি। পরে ওইদিন রাতে বেয়াই আসাদ আলী আমাক ফোনে জানায় আপনার মেয়ে গলা ফাঁস নিয়ে নিজেই আত্মহত্যা করেছে।’
খবর পেয়ে আজ (শনিবার) সকালে কিশোরগঞ্জ থেকে আত্মীয়স্বজনসহ সরাসরি থানায় চলে আসি। থানায় এসে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের লাশ দেখতে পাই।
শান্তার মৃত্যুকে ঘিরে আমি ভীষণভাবে সন্দেহ পোষণ করছি এবং ঘটনাটি খতিয়ে দেখার জন্য থানায় অভিযোগ দেবেন বলে জানান তিনি।
কলমাকান্দা থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল আহাদ খান জানান, রাতেই লাশ উদ্ধার করে সীমান্ত এলাকা থেকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে নিহতের বাবা ও আত্মীয়স্বজনসহ থানায় এসেছেন। তারা সন্দেহ করছেন এ মৃত্যুর পেছনে রহস্য রয়েছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে নিহতের বাবা অভিযোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন। অভিযোগ দাখিলে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে জানান তিনি।