অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদানের নির্দেশনা চেয়ে রিট

অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) টিকার দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছে।

শনিবার চার আইনজীবী ই-মেইলে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদনটি করেন।

এই চার আইনজীবী হলেন- ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব, অ্যাডভোকেট রাশিদা চৌধুরী, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাউছার ও ব্যারিস্টার মো. মোজাম্মেল হক।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সরকারের সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।

আবেদনের বরাতে আইনজীবী হুমায়ুন কবির পল্লব জানান, রিট আবেদনকারী রাশিদা চৌধুরী একজন অন্তঃসত্ত্বা। তিনি অনেক দিন ধরে টিকা নেওয়ার জন্য চেষ্টা করে গেলেও নিতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে তিনি তার অনাগত সন্তান ও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৩৫ লাখ নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়। অর্থাৎ ৩৫ লাখ অন্তঃসত্ত্বা নারী আরও ৩৫ লাখ মানুষের অস্তিত্ব বহন করে। কিন্তু করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং শিশুরা মারা যাচ্ছে।

এই আইনজীবী বলেন, সঠিকভাবে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকার ব্যবস্থা করা গেলে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব। গবেষণা অনুযায়ী অন্তঃসত্ত্বা নারীরা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার অধিক ঝুঁকির মধ্যে থাকে। আক্রান্ত হলে তাদের এবং শিশুর জীবন বিপদাপন্ন হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে অন্তঃসত্ত্বাদের করোনার টিকা দেওয়া যাবে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অন্তঃসত্ত্বাদের ফাইজার এবং মডার্নার উৎপাদিত কভিড ভ্যাকসিন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওইসব দেশে অন্তঃসত্ত্বা নারীরা টিকা নেওয়ার পর তেমন কোনো পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

আইনজীবী পল্লব বলেন, অত্যন্ত দুঃখের বিষয় সরকারের নির্ধারিত করোনা ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশনের সুরক্ষা অ্যাপে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিবন্ধন করার জন্য অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। অথচ তাদের চেয়েও কম ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।