ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পুলিশের সঙ্গে এসে আশরাফুল ইসলাম আশরাফ (৪০) নামের এক ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করেছে এক ব্যক্তি।
এ ঘটনায় শৈলকুপা থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই), এক কনস্টেবল ও হামলাকারীকে আটক করে এলাকাবাসী।
তাৎক্ষণিক এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করে।
প্রত্যক্ষদর্শী মাহমুদ হোসেন জানায়, শুক্রবার বিকেলে শৈলকুপার গাড়াগঞ্জ এলাকায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে হাবিবপুর গ্রামের মজিদ শেখের ছেলে সেজান হোসেনের সঙ্গে গাড়াগঞ্জ এলাকার আশরাফুলের ছেলে সজীবুলের মারামারি হয়।
এ ঘটনার পর শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সেজানের ভাই হাফিজুর রহমান শৈলকুপা থানার এসআই সাজ্জাদ হোসেন, কনস্টেবল রাশেদ হোসেনসহ আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে গাড়াগঞ্জ বাজারে আসে।
এ সময় তারা গাড়াগঞ্জ স্ট্যান্ডে বসে থাকা আশরাফুলকে ধরে নিয়ে ব্র্যাক অফিসের সামনে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে আশরাফুলকে ছুরিকাঘাত করে হাফিজ।
ঘটনার পর আশপাশের লোকজন ছুটে এলে সাজ্জাদ নিজেকে পুলিশ পরিচয় দেয়। ঘটনাস্থল থেকে অন্যরা পালিয়ে গেলেও এসআই সাজ্জাদ, কনস্টেবল রাশেদ ও হাফিজকে আটক করে রাখে এলাকাবাসী।
প্রত্যক্ষদর্শী শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশ সিভিল পোশাকে এসেছিল। আর তাদের সঙ্গে যারা এসেছিল তাদের হাতে চাপাতি ও ছুরি ছিল। এসেই তারা আশরাফুলকে মারধর শুরু করে। পরে সেভেন গিয়ার ছুরি দিয়ে আঘাত করে।
তিনি বলেন, ‘আমরা গেলে এসআই সাজ্জাদ বলে আমরা পুলিশের লোক। আশরাফুলের নামে মামলা আছে তাই আসামি ধরতে এসেছি।’
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। প্রায় আধা ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পরে সহকারী পুলিশ সুপার (শৈলকুপা সার্কেল) আরিফুল ইসলাম, শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিচারের আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে দেয়।
এসআই, কনস্টেবল ও হামলাকারীকে উদ্ধার করে নিয়ে যান পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে জানতে সহকারী পুলিশ সুপার (শৈলকুপা সার্কেল) আরিফুল ইসলাম ও শৈলকুপা থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলমকে ফোন দিলে তারা ফোন ধরেননি।