নানা ভোগান্তি আর দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে গ্রাম থেকে এসে শনিবার সকালে নিজ কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন অধিকাংশ পোশাক শ্রমিক। সরকারের দেয়া ১৫ দফা নির্দেশিকা মেনে বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের প্রবেশ করতে দেখা গেছে।
তবে কাজে যোগ দেয়া শ্রমিকদের মাঝে দেখা গেছে ক্লান্তির ছাপ। শনিবার দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে এসে সকালে কর্মস্থলে যোগ দেয়া শ্রমিকরা অনেকটাই ক্লান্ত ছিলেন।
রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন জেলা থেকে চান্দনা চৌরাস্তা ও কালিয়াকৈরের চন্দ্রা দিয়ে লোকজন গাজীপুর ও ঢাকায় প্রবেশ করছে। শনিবার যেসব পোশাক শ্রমিক গাজীপুর এসে পৌঁছাতে পারেননি তারা রবিবার গাজীপুরে আসছেন। অনেকে সোমবার থেকে কাজে যোগ দেবেন।
তবে কয়েকজন কারখানার কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে তাদের প্রায় ৮৫ ভাগ শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েছে। সোমবারের মধ্যে শত ভাগ শ্রমিক কাজে যোগ দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে সরকার রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত বাস চলাচলের কথা থাকলেও যাত্রী বেলা দুইটাা পর্যন্ত সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। আর ওইসব যাত্রীবাহী বাসগুলো সিটের অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে।
নেই কোনো সামাজিক দূরত্ব, অনেকের মুখে নেই মাস্ক, কোনো প্রকার স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না যানবাহনের যাত্রীদের মধ্যে।
গাজীপুর পরিবহনের এক সহকারী আলম হোসেন বলেন, সকালে যাত্রীর আশায় খালি বাস নিয়ে ময়মনসিংহ গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে কাঙ্খিত যাত্রী না পেয়ে লোকাল হিসেবে যাত্রী নিয়ে চান্দনা চৌরাস্তা এসেছি। ওই বাসের চালক, কন্ট্রাকটর ও সহকারীর মুখেও কোনো মাস্ক ছিল না।
তিনি বলেন, যাত্রীরা স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। তাদের মুখেও মাস্ক নেই।
রাস্তায় শনিবারের তুলনায় যাত্রী সংখ্যা কম। তবে তিন চাকার প্রচুর যানবাহন সড়কে চলাচল করছে।
গাজীপুর জেলা শহর, চান্দনা চৌরাস্তা, টঙ্গীসহ বিভিন্ন এলাকায় গোপনে বেশকিছু দোকানপাট খোলা ছিল। মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তেমন কড়াকড়ি দেখা যায়নি।
কোনাবাড়ী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর গোলাম ফারুক বলেন, পোশাক কারখানা খোলে দেয়ার ঘোষণার পর মানুষ নানা উপায়ে তাদের কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে। যানবাহন না থাকায় পায়ে হেঁটেই যাচ্ছেন।
গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় গাজীপুর মেট্রোপলিটনের সহকারী কমিশনার (ট্রাফিক বিভাগ) মো. মেহেদী হাসান বলেন, কারখানা খোলার ঘোষণায় নানা উপায়ে মানুষ আজো আসছে। পোশাক শ্রমিকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য বলা হচ্ছে।