ভাড়ার অভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষ

করোনাভাইরাসের প্রভাবে অর্থনৈতিক চাপে বিশ্বের দরিদ্ররা। ধনীরা রাষ্ট্রীয় প্রণোদনায় আরও সম্পদের মালিক হলেও, দরিদ্রদের অবস্থা ক্রমশ শোচনীয় হচ্ছে। আমেরিকা থেকে শুরু করে বাংলাদেশ পর্যন্ত সর্বত্রই দরিদ্রদের অবস্থা নিতান্ত খারাপ। ২০১৯ সালের শেষের দিকে করোনা প্রাদুর্ভাব শুরুর পর মানুষ ভেবেছিল কয়েক মাসের মধ্যেই মহামারী থেকে মুক্তি মিলবে। কিন্তু দুই বছর হতে চললেও করোনা থেকে মুক্তি পাওয়া তো দূরের কথা, পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। দীর্ঘ লকডাউন, সামাজিক দূরত্ব ও বিধিনিষেধের কারণে বেকারত্বের হার বেড়েছে বহুগুণ। এতে বাড়িভাড়ার মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যয় দিতে পারছেন না বহু মানুষ।

যুক্তরাষ্ট্রের দশ লক্ষাধিক মানুষ যে বাড়িভাড়া দিতে পারছে না, বিষয়টি নজর এড়িয়ে গেছে ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন হোয়াইট হাউজ ও কংগ্রেসের। ভাড়া দেওয়ার নির্ধারিত সময় পার হওয়ার কারণে এই মহামারীর মধ্যেই ওই আমেরিকানদের বাস্তুচ্যুত হওয়ার বাস্তবতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। সিএনএন বলছে, আগামী মাস নাগাদ বাস্তুচ্যুত আমেরিকানের সংখ্যা দশ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় আমেরিকানদের বাড়িতে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়ে রেখেছে ওয়াশিংটন প্রশাসন। এমন অবস্থায় ওই নাগরিকদের পক্ষে কোনো কাজে যোগ দিয়ে বাড়িভাড়া পরিশোধ করার মতো অবস্থা নেই।

হাউজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি গত শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা গতকালই বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছি। বিষয়টি নিয়ে এগোনোর মতো যথেষ্ট সময় আমাদের হাতে নেই। ককাসে আমরা বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় আলোচনা করতে পারি।’ তবে বাড়িভাড়া পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে নির্দিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হবে, এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পেলোসি। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, পেলোসি বাইডেন প্রশাসনের কাছে বিষয়টি ঠেলে দিয়ে দায়িত্ব মেটাবেন; যাতে বাইডেন প্রশাসন কংগ্রেসকে বাড়িভাড়া পরিশোধে মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে বলতে পারে।

বাইডেন প্রশাসন অবশ্য এমন ঘটনা সৃষ্টির জন্য দায়ী করছে সুপ্রিম কোর্টকে। তাদের মতে, এক মাস আগেও সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি আমলে নেয়নি। এক মাস আগে আদালত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দিলে বাইডেন প্রশাসন কংগ্রেসে ভোটাভুটির মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধের সময় বৃদ্ধি বা উচ্ছেদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারত। সিনেট আসলে এই ইস্যুতে দ্বিধাবিভক্ত। সিনেটের একাংশ বাড়িভাড়া পরিশোধে সময় বৃদ্ধির পক্ষে হলেও, বড় একটি অংশই বিপক্ষে। এমনকি রিপাবলিকানদেরও একটি বড় অংশ উচ্ছেদ কার্যক্রম অস্থায়ীভাবে বন্ধের বিপক্ষে। সরকার কি বেসরকারি ভূমি মালিকদের ভাড়া পরিশোধের সময় বৃদ্ধির ব্যাপারে আহ্বান বা চাপ দেবে কি না তা এখনো বলা যাচ্ছে না।

ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্র্যাট সিনেটর আয়ান্না প্রিসলি সিএনএনকে বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করেই বলতে পারি, এই মুহূর্তে আমরা আমেরিকানদের ব্যর্থ করে দিচ্ছি। হোয়াইট হাউজের বক্তব্য এখনই আমাদের জানা দরকার। এটা আরও অনেক আগেই জানা দরকার ছিল। এখন সময় আছে ভুলকে শুধরে ঠিক করার। আমি বিশ্বাস করি যে, হোয়াইট হাউজ এবং সিডিসি বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আদালতও যদি এগিয়ে আসে, তাহলেও ওই পরিবারগুলো কিছু সময় পেতে পারে।’

এর আগে নির্দিষ্ট আইনি প্রস্তাব ছাড়া ভাড়া পরিশোধ করতে না পারা লোকজনকে উচ্ছেদের মেয়াদ আর বর্ধিত না করার কথা জানায় সুপ্রিম কোর্ট। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, সুপ্রিম কোর্টের এমন নির্দেশনার পর উচ্ছেদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বর্ধিত করার সুযোগ নেই। ফলে কংগ্রেসকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। গত জুলাইয়ের পাঁচ তারিখ পর্যন্ত বহু লোকের ঘরভাড়া বকেয়া পড়েছে। এই হিসাবে তালিকাভুক্ত ভাড়াটেদের শুধু ধরা হয়েছে। তালিকার বাইরেও রয়েছেন অনেকে।