বার্লিনে করোনা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, আটক ৬০০

সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রবিবার জার্মান সরকারের করোনা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া পদক্ষেপের প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। বার্লিনের এ ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়, আটক হয় প্রায় ৬০০ বিক্ষোভকারী।

ভয়েস অব আমেরিকা জানায়, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই সপ্তাহান্তে বেশ কয়েকটি বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছিল, যার মধ্যে ছিল স্টুটগার্ট ভিত্তিক কোয়ার্ডেনকার আন্দোলনের একটি অংশ। বার্লিনে বিক্ষোভকারীরা সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাস্তায় নেমে আসে।

বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করার জন্য দুই হাজারেরও বেশি পুলিশ মোতায়েন করে।

বার্লিন পুলিশ বলেছে, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে আমাদের সহকর্মীদের বের করে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। অগত্যা ঝাঁজালো পদার্থ বা ব্যাটন ব্যবহার করতে হয়।

পুলিশ লাউডস্পিকারের মাধ্যমে আগেই সতর্ক করেছিল, প্রতিবাদকারীরা ছত্রভঙ্গ না হলে তারা জলকামান ব্যবহার করবে।

জার্মান গণমাধ্যম বলছে, রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ প্রায় ৬০০ জনকে আটক করেছে। বিক্ষোভকারীরা তখনো মিছিল করছিল।

দেশটিতে মে মাসে বেশ কিছু কভিড নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে, রেস্তোরাঁ ও বার পুনরায় খুলে দেওয়া হয়। তবে রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়া কিংবা হোটেলে থাকার জন্য প্রমাণ হিসেবে সম্পূর্ণরূপে টিকা নিয়েছেন, ভাইরাস থেকে সুস্থ হয়েছেন বা সাম্প্রতিক করোনা নেগেটিভ সনদ ইত্যাদি দেখাতে হয়।

প্রতিবেশী দেশের তুলনায় জার্মানিতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার কম হলেও গত কয়েক সপ্তাহে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমণ নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। রবিবার ২০৯৭টি নতুন সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়, যা আগের রবিবারের তুলনায় ৫০০-এর বেশি।

কোয়ারডেনকার জার্মানির সবচেয়ে দৃশ্যমান লকডাউনবিরোধী আন্দোলন, বার্লিনে হাজার হাজার লোককে বিক্ষোভে উদ্বুদ্ধ করেছে। এই আন্দোলন ডান ও বাম উভয় মতবাদের লোককে একত্রিত করেছে, যাদের মধ্যে টিকা বিরোধী, করোনাভাইরাস অস্বীকারকারী, ষড়যন্ত্র তত্ত্ববিদ এবং ডান চরমপন্থী গ্রুপের লোকজনও রয়েছে।

চলতি বছরের গোড়ার দিকে, জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা বিভাগ সতর্ক করে দিয়েছিল, এই আন্দোলন ক্রমবর্ধমানভাবে উগ্রবাদী আন্দোলনে রূপ নিচ্ছে এবং এর কিছু অনুসারীদের নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে।

এর আগে ইউরোপ জুড়ে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত ব্যবস্থাগুলোর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে।

টিকা দেওয়ার বিধিনিষেধের প্রতিবাদে ফ্রান্সে শনিবার দুই লাখেরও বেশি মানুষ টানা তৃতীয় সপ্তাহান্তে বেরিয়ে এসেছিল। কখনো কখনো পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া গত সপ্তাহান্তে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ ইতালির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করে।