প্রতিপক্ষ নামে জায়ান্ট। কিন্তু এই অস্ট্রেলিয়া খর্বশক্তির। তাই তাদের হারানোর চাপটা অধিনায়ক হিসেবে মাহমুদউল্লাহর ওপরই বেশি। তার ওপর মুশফিকুর রহিম না থাকায় ব্যাটিং অর্ডারে ওপরে ব্যাট করতে হচ্ছে তাকে। টপঅর্ডারে সফল হলে তা এগিয়ে নেওয়া বা ব্যর্থ হলে গড়ে তোলার দায়িত্বটাও পালন করতে হবে বাংলাদেশ অধিনায়ককে। জিম্বাবুয়েতেও একই দায়িত্ব ছিল মাহমুদউল্লাহর। কিন্তু প্রতিপক্ষ বড় জায়ান্ট না বলে খুব একটা চাপে ছিলেন না। এ সিরিজে উল্টো পরিস্থিতিতে পড়লেও চাপ নিচ্ছেন না টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক।
বরাবরই ফিনিশারের ভূমিকায় দেখা যায় মাহমুদউল্লাহকে। তড়িঘড়ি রান তোলা, দলের প্রত্যাশা মেটাতে গিয়ে নিজের স্বাভাবিক খেলা খেলতেই পারেন না। জিম্বাবুয়ে সিরিজ থেকে সেই দায়িত্ব থেকে মুক্তি মিলেছে। নিচের দিকে আফিফ হোসেন, শামীম হোসেন ও সাইফউদ্দিন থাকায় এখন আর লেজের ব্যাটিং নিয়ে ভাবতে হচ্ছে না মাহমুদউল্লাহকে। অবশ্য নতুন দায়িত্বকে চাপ নয় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে সফল হতে চান, ‘প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ থাকবে, সেটা সবসময়ই। আমি ব্যক্তিগত ভাবে চাপ নিচ্ছি না। টি-টোয়েন্টিতে আমি প্রায় সময় ৫-৬ নম্বরে ব্যাট করেছি। তবে গত জিম্বাবুয়ে সিরিজে আমাকে ওপরের দিকে ব্যাট করতে হয়েছে। সম্ভবত এই (অস্ট্রেলিয়া) সিরিজেও হয়তো-বা ওপরের দিকে ব্যাট করতে হতে পারে। চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ যেন দলের প্রয়োজনে অবদান রাখতে পারি।’ পাশাপাশি তরুণদের তাদের দায়িত্বে সফল দেখতে চান, ‘আমার মনে হয় সোহান, আফিফ, শামীম নিজেদের খেলা শেষ করার সামর্থ্যরে ছাপ রেখেছে। আর তারা বেশ ভালো ছন্দে আছে। আমি তাদের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছি যে তারা তাদের প্রতিভা ও স্কিলের প্রতি সুবিচার করতে পারবে।’
এ সিরিজে নিশ্চিত ভাবেই থাকতেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু কোয়ারেন্টাইন নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বাড়তি চাহিদার কারণে থাকছেন না বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান। আগের দিন প্রেস কনফারেন্সে তা নিয়ে খুব আক্ষেপ করেছেন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। আক্ষেপ ঝরল অধিনায়কের কণ্ঠেও। তাই বলে বিধিনিষেধের কারণে মুশফিককে হারানোয় বা বায়ো-বাবল নিয়ে অতি কঠোর হওয়ায় অস্ট্রেলিয়াকে ‘দেখে নেওয়ার’ মনোভাব নেই মাহমুদউল্লাহর, ‘মুশফিক অবশ্যই আমাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। আমি নিজেও হতাশ তাকে না পেয়ে। কিন্তু এগুলো নিয়ে তাই এই মুহূর্তে ভাবছি না। কারণ আমাদের তো কিছু করার নেই। যে সিদ্ধান্ত হয়েছে সেটা অতীত, আমরা ভাবছি সিরিজটা যেন ভালো ভাবে শুরু এবং শেষ করতে পারি। আর অস্ট্রেলিয়া বেশি সুবিধা নিচ্ছে বলে দেখিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। আমরা মাঠের খেলায় ফোকাস রাখছি। যদি বেশি চাপ নিয়ে নিই তবে ফল উল্টো হতে পারে। আমরা চাইব বাইরের ব্যাপারগুলো নিয়ে চিন্তা না করার।’