ডেঙ্গুতে সতর্কতা

ডেঙ্গু ভাইরাসঘটিত সংক্রামক রোগ। এটি ‘এডিস’ নামক বিশেষ স্ত্রী মশার মাধ্যমে মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়। সাধারণত গ্রীষ্মকালের শেষ, বর্ষা ও শরৎকালে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি হয়। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রলম্বিত বর্ষাকাল, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা বৃদ্ধি এডিস মশার প্রজননে সহায়ক হওয়ায় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের দরুন বর্তমান বছরগুলোতে এই রোগের প্রাদুর্ভাব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সময় : সাধারণত জুন থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে ডেঙ্গুর বিস্তার বেশি থাকে। আমাদের আশপাশে যেকোনো জায়গায় ফুলের টব, নারকেলের খোসা, প্লাস্টিক বা মাটির পাত্র, ফ্রিজের পেছনে জমে থাকা পানি অথবা রাস্তায়-ডোবায় যেখানে কিছুদিন পানি জমে থাকতে পারে সেখানেই এডিস মশা বসবাস ও বংশবিস্তার শুরু করে। এই মশা সাধারণত অন্ধকারে কামড়ায় না। দিনের আলোতে বিশেষ করে ভোরবেলা ও সন্ধ্যার আগে বেশি কামড়ায়।

লক্ষণ : এই রোগে সাধারণত দু-এক দিন শরীর ম্যাজম্যাজ থেকে তীব্র জ্বর আসে, সঙ্গে প্রচণ্ড মাথাব্যথা, চোখের পেছনের দিকে ব্যথা, অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, গায়ে লাল-লাল চাকা বা দাগ, বমি-বমি ভাব, পাতলা পায়খানা, গলায় ব্যথা, নাকের ঝিল্লিতে ব্যথা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা যায়। শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী মায়েরা বা যারা কোনো ক্রোনিক রোগে ভুগছেন অথবা যারা আগে একবার ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে এই রোগ মারাত্মক রূপ নিতে পারে।

প্রতিরোধ : এই জ্বরেরও তেমন কোনো প্রতিষেধক নেই। যেহেতু মশা এই রোগের একমাত্র বাহক তাই মশার আবাসস্থল ধ্বংস করে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করাই শ্রেয়। এডিস মশা সাধারণত স্বচ্ছ পানিতে ডিম পাড়ে। এজন্য নিজ নিজ ঘরে এবং আশপাশে ফুলের টব, টিনের কৌটা, কনটেইনার, ব্যাটারির শেল প্রভৃতিতে জমে থাকা পানিও অপসারণ করে ফেলতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে কোথাও পানি যেন একটানা পাঁচ দিনের বেশি জমে না থাকে। অব্যবহৃত পানির পাত্র, কৌটা ধ্বংস করতে হবে বা অন্তত উল্টে রাখতে হবে, যাতে পানি জমতেই না পারে। পাত্রের গায়ে মশার ডিম লেগে থাকলে তা পরিষ্কার করে ফেলা অনিবার্য।

এর পাশাপাশি মশার হাত থেকে বাঁচার জন্য দিনে বা রাতে যখনই ঘুমাবেন মশারি খাটিয়ে ঘুমাবেন। বাসায় কোনো ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী থাকলে তাকে সব সময় মশারির ভেতরে রাখুন। ঘরে মশানিরোধক স্প্রে বা কয়েল ব্যবহার করতে পারেন। প্রয়োজনে ফুল হাতা জামা-প্যান্ট পরিধান করুন এবং উন্মুক্ত স্থানে মসকুইটো রিপেলেন্ট ক্রিম লাগিয়ে রাখুন।

প্রতিকার : ডেঙ্গু জ্বর সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন, প্রয়োজনে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়িতে চিকিৎসা নেওয়া রোগীকে দৈনিক তিন লিটার পরিমাণে বিভিন্ন তরল যেমন বিশুদ্ধ পানি, ডাবের পানি, ফলের রস ইত্যাদি খাওয়ান। শরীরে বারবার স্পঞ্জিং করে শুকনো কাপড় দিয়ে শরীর মুছে ফেলুন। তাপমাত্রা বেশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল-জাতীয় ওষুধ খাওয়ান। কিন্তু রোগীকে কখনোই অ্যাসপিরিন-জাতীয় ওষুধ খাওয়াবেন না। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাওয়ানো থেকেও বিরত থাকুন এবং রোগীকে অবশ্যই সব সময় মশারির মধ্যে রাখুন।