নরসিংদীর রায়পুরায় একটানা ৪২ কিলোমিটার নদী সাঁতার কেটে আলোচনায় এসেছেন বকুল সরকার নামে স্থানীয় এক পল্লি চিকিৎসক।
মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর অবধি কিশোরগঞ্জের ভৈরব ব্রিজ থেকে উত্তাল মেঘনা নদী হয়ে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা হাইরমারা ইউনিয়নের মনিপুরা বাজার ঘাট পর্যন্ত বিরতিহীন ৪২ কিলোমিটার সাঁতার কাটেন তিনি। এ সময় স্পিডবোট, নৌকা ও ট্রলার নিয়ে কয়েক শ দর্শক তার সঙ্গে ছিলেন। নদীর দুপাড়ে ছিল উৎসুক জনতার ভিড়। ঘাটে হাজার হাজার মানুষ তাকে অভিবাদন জানাতে জড়ো হয়।
বকুল সরকার নরসিংদী সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নের খোদাদিল্লা গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। তিনিও পেশায় একজন পল্লি চিকিৎসক।
স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বকুল সরকার গত বছরের ২৩ আগস্ট বিরতিহীন টানা ৪ ঘণ্টা সাঁতার দিয়ে ১৫ কিলোমিটার উত্তাল মেঘনা পাড়ি দেন। এরপর স্থানীয়দের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা পুরস্কার জিতে নেন তিনি। এ বছর নিজেই ব্যক্তিগতভাবে পূর্বঘোষণা দিয়ে পাশের জেলা কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজারের পাশ থেকে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার হাইরমারা ইউনিয়নের মনিপুরা ঘাট পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার টানা সাঁতরে পার হন। ভোর পাঁচটায় শুরু হওয়া সাত ঘণ্টার এ যাত্রা শেষ হয় দুপুর ১২টায়। এরপর রায়পুরা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হাজী আব্দুল মোমেন তাকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান।
পল্লি চিকিৎসক বকুল সরকার বলেন, নদীপথে সাঁতারের পূর্বের সব রেকর্ড ভাঙতে চাই। ভবিষ্যতে নদীপথে নরসিংদী থেকে ঢাকা যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। মনের আনন্দেই আমি এই কাজটা করে থাকি।
রায়পুরা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হাজী মোমেন বলেন, বকুল বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ। তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।