নবম-দশম শ্রেণি বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

চতুর্থ অধ্যায় : বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি ও জলবায়ু

সৃজনশীল

১. সাজ্জাদ সাহেব টেলিভিশনে দুর্যোগের ওপর প্রতিবেদন দেখছিলেন। প্রতিবেদনটিতে দেখাচ্ছিল, জাপানের একটি শহর হঠাৎ কেঁপে ওঠায় শহরটির বেশ কিছু বাড়িঘর ভেঙে গিয়ে কয়েকটি এলাকার বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদন দেখে সাজ্জাদ সাহেব নিজের দেশে এই দুর্যোগের ভয়বহতা প্রতিরোধে পূর্বপ্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।

ক. চিকনাগুল কী?

খ. কালবৈশাখী ধারণাটি ব্যাখ্যা করো।

গ. উক্ত প্রতিবেদনটিতে সাজ্জাদ সাহেবের দেখা দুর্যোগটি সৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা করো।

ঘ. সাজ্জাদ সাহেব উদ্দীপকে উল্লিখিত দুর্যোগটির ঝুঁকি মোকাবিলায় কী ধরনের পূর্বপ্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন তোমার পঠিত বিষয়বস্তুর আলোকে আলোচনা করো।

উত্তর

ক. বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহের মধ্যে অন্যতম একটি পাহাড় হচ্ছে চিকনাগুল।

খ. গ্রীষ্মকালে সূর্য উত্তর গোলার্ধে কর্কটক্রান্তি রেখার নিকটবর্তী হওয়ায় বায়ুর চাপের পরিবর্তন হয় এবং বাংলাদেশের ওপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু প্রবাহিত হয়। একই সময়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে শুষ্ক ও শীতল বায়ু প্রবাহিত হয়। এর ফলে এক ধরনের ঝড়ের সৃষ্টি হয়। এ ঝড়কে কালবৈশাখী বলে।

গ. প্রদত্ত প্রতিবেদনটিতে সাজ্জাদ সাহেবের দেখা দুর্যোগটি হলো ভূমিকম্পনজনিত দুর্যোগ। ভূমিকম্পনের কারণ অনুসন্ধানকালে বিজ্ঞানীরা লক্ষ করেন পৃথিবীর বিশেষ কিছু এলাকায় ভূমিকম্প বেশি হয়। এ সমস্ত এলাকায় নবীন পর্বতমালা অবস্থিত। তাদের মতে ভিত্তিশীলা চ্যুতি বা ফাটল বরাবর ভূ-আলোড়ন হলে ভূমিকম্প হয়। যা মাত্র কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয় এবং ভূ-পৃষ্ঠের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। এছাড়া আগ্নেয়গিরির লাভা প্রচণ্ড শক্তিতে ভূ-অভ্যন্তর থেকে বের হয়ে আসার সময়ও ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। ভূ-ত্বক তাপ বিকিরণ করে সংকুচিত হলে ভূ-নিম্নস্থ শিলাস্তরে ভারের সামঞ্জস্য রক্ষার্থে ফাটল ও ভাঁজের সৃষ্টির ফলে ভূকম্পন অনুভূত হয়। ভূ-আলোড়নের ফলে ভূ-ত্বকের কোনো স্থানে শিলা ধসে পড়লে বা শিলাচ্যুতি ঘটলে ভূকম্পন হয়। প্লেটের একটি অপরটির সীমানা বরাবর তলদেশে ঢুকে পড়ে অথবা আগে-পিছে সরে গেলে এ ধরনের সংঘাতপূর্ণ পরিবেশে ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। এভাবেই মূলত ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। বিজ্ঞানীরা ভূমিকম্পের দুটি কারণ চিহ্নিত করেছেন প্লেটসমূহের সংঘর্ষের ফলে ভূ-ত্বকে যে ফাটলের সৃষ্টি হয় তা ভূমিকম্পন ঘটিয়ে থাকে। ভূ-অভ্যন্তরে ম্যাগমার সঞ্চারণ বা চ্যুতি রেখা বরাবর চাপমুক্ত হওয়ার কারণে ভূমিকম্প হয়।

ঘ. উদ্দীপকের আলোকে বলা যায় সাজ্জাদ সাহেবের দেখা দুর্যোগটির সঙ্গে ভূমিকম্পের মিল রয়েছে। তাই সাজ্জাদ সাহেব দুর্যোগটির ঝুঁকি মোকাবিলায় ভূমিকম্পের পূর্বপ্রস্তুতিস্বরূপ একজন ব্যক্তির যা করণীয় সে ধরনের প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। যেমন,

১. বাড়িতে ব্যাটারিচালিত রেডিও এবং টর্চলাইট সবসময় রাখা।

২. প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা।

৩. গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের মেইন সুইচ কোথায় জেনে রাখা এবং এগুলো কীভাবে বন্ধ করতে হয় তা জেনে রাখা।

৪. বাড়ির সবচেয়ে সুরক্ষিত স্থানটি চিহ্নিত করা।

৫. হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স এবং ফায়ার ব্রিগেডের নম্বর সংগ্রহ করে হাতের কাছে রাখা।

৬. স্কুলে বাচ্চাদের ভূমিকম্প সম্পর্কে ধারণা দেওয়া।

৭. ভূমিকম্পের সময় কী করতে হবে তা শিখিয়ে দেওয়া।

৮. খেলার মাঠে থাকাকালীন সময়ে দালানকোঠা থেকে দূরে থাকা ইত্যাদি।

ভূমিকম্পের প্রস্তুতিস্বরূপ একজন ব্যক্তির করণীয় এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে ভূমিকম্প ঘটে যাওয়া সত্ত্বেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া সহজ হবে।