সাকিবের কথা শুনে সফল নাসুম

২০০৫-এ ওয়ানডেতে মোহাম্মদ আশরাফুল, ২০১৭তে টেস্টে সাকিব আল হাসান আর গতকাল নাসুম আহমেদ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের তিন ফরম্যাটের প্রথম জয়ের নায়ক এ তিনজন। কাল ৪ ওভারে ১৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারসেরা বোলিংও করলেন নাসুম। আগের চারটিতে বেশ চ্যালেঞ্জে পড়তে হয়েছে নাসুমকে। নিজেকে ঠিক চেনাতে পারছিলেন না। কাল পঞ্চম টি-টোয়েন্টিতে নেমে সাকিব আল হাসানের পরামর্শে সেরা পারফর্মটা দেখিয়ে দেন। 

অবশ্য নাসুমের জয়ের ইচ্ছাটা ছিল দলের জয়ের জন্য। ম্যাচের আগের দিন থেকেই দোয়া করছিলেন যেন অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে প্রথম জয় পায় বাংলাদেশ। তিনি নিজেই জয়টা এনে দেবেন তা হয়তো ভাবেননি মোটেও, ‘অস্ট্রেলিয়া দলকে হারানোর ব্যাপারে একটাই চিন্তা ছিল যেন আমরা জিতি। কাল আমি দোয়াও করছিলাম যে আল্লাহ এখনো আমরা একটা ম্যাচও জিতিনি যেন এবার জিততে পারি। তো সবাই মিলে চেষ্টা করেছি, আলহামদুলিল্লাহ সফল হয়েছি।’

কিন্তু ভালো করার স্পৃহাটা কীভাবে এনেছেন নাসুম। চ্যালেঞ্জটা জিতলেন কী করে? আগের চার ম্যাচে নিজেকে চেনাতে না পারা নাসুম এক ম্যাচেই লাইমলাইটে চলে এলেন হুট করে। আগের ৪টি টি-টোয়েন্টিতে তার সংগ্রহ ছিল মাত্র ২ উইকেট।

অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর দিন ছাড়িয়ে গেলেন নিজেকে। জানালেন এমন ভালো করার পরিকল্পনাটা করছিলেন ম্যাচের আগের দিন থেকেই। যখন জানলেন সেরা একাদশে আছেন। এছাড়া ম্যাচে সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের পরামর্শগুলোও কাজে লাগিয়েছেন পরিপূর্ণভাবে, ‘কালকে যখন নেটে বল করছিলাম তখন কোচ আমাকে বলল যে কাল তুমি খেলবে। তাই তোমার ওপর অনেক দায়িত্ব। সেখান থেকেই আমি ভাবতেছিলাম খেললে আমি কী করব। শেষ একটা ম্যাচে একটু বাজে বল করেছি। তো যখন আমরা ১৩১ করেছি তখন নামার আগে রিয়াদ ভাই বলতেছিল আমরা এ রানেই ফাইট করব, ডট বল করব, যতটুক পারি চেষ্টা করব জেতার জন্য। তো ওই ডট বলের চিন্তাই করছিলাম। যখন প্রথম দুটো বল করলাম ব্যাক অব লেন্থে তখন সাকিব ভাই আমাকে বলল এই উইকেটে আস্তে বলটাই ভালো এবং সামনে করলে ভালো হয়। তো ওটাই চেষ্টা করেছি। চারটা ওভার যে করেছি সব সময়ই সাকিব ও রিয়াদ ভাই আমার সঙ্গে কথা বলেছে। রিয়াদ ভাই বলছিল ওকে ওর মতো বল করতে দে। তো ডট বল করার চেষ্টাতেই সফল হয়েছি।’

তবে নাসুম স্বীকার করলেন উইকেট ছিল স্পিন সহায়ক। যে কারণে কাজটা সহজ হয়েছে আরেকটু, ‘আমরা যে রান করছি ওটাতে ডিপেন্ড করা সম্ভব ছিল। আমাদের চেষ্টা ছিল সেই সঙ্গে উইকেটেও সাহায্য ছিল। আমরা সেটাও কাজে লাগিয়েছি।’ 

এদিকে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ বলছেন ফিল্ডিংয়ের গুরুত্বের কথা। যেহেতু কম রান তাই মাঠে নামার আগেই রান বাঁচানোকে গুরুত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক, ‘ইনিংসের মাঝপথে আমরা নিজেদের মধ্যে কথা বলেছি যে আমরা ১০ রান কম তুলেছি স্কোরবোর্ডে সুতরাং আমাদের ফিল্ডিংটা ভালো হতে হবে এবং সর্বোচ্চ চেষ্টা দেখাতে হবে। আমরা এখনই সবকিছু শেষ করেছি এমন নয়, এটা মাত্র একটা ম্যাচ ছিল এবং আমরা জিতেছি আর এটা এখানেই শেষ, আগামীকালের ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছি।’