বিশ্বরেকর্ড গড়ে ইতিহাসে ওয়ারহোম

দৌড় শেষ করে বিস্ময়ে থ হয়ে গেলেন। অবিশ্বাসের দৃষ্টি ওমেগা ক্লকের দিকে। ৪৫.৯৪ সেকেন্ড! এও কি সম্ভব? কিছুক্ষণ হাঁ হয়ে তাকিয়ে থেকে ঘোর ভাঙতেই উদযাপনে মাতলেন কারস্টেন ওয়ারহোম। নরওয়ের এই হার্ডলার ৪০০ মিটার হার্ডলসে শুধু বিশ্বরেকর্ডই গড়েননি শূন্য দশমিক ৭৬ সেকেন্ড কম সময় নিয়ে ভেঙে ফেলেছেন ১ জুলাই নরওয়েতে ডায়মন্ড লিগে গড়া নিজেরই ৪৬.৭০ সেকেন্ডের আগের বিশ্বরেকর্ড। শুধু ওয়ারহোমের পারফরম্যান্স নয়। এই ফাইনালে সেরা সাত ফিনিশারের ৬ জনই গড়েছেন নিজ নিজ জাতীয় অথবা মহাদেশীয় রেকর্ড।

ওয়ারহোমের কীর্তিকে অনেকেই ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের ইতিহাসের অন্যতম সেরা আখ্যা দিয়ে ফেলেছেন। মাসখানেক আগেই একটা কিছু করার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিলেন ওয়ারহোম। আমেরিকান লিজেন্ড কেভিন ইয়ংয়ের ২৯ বছরের পুরনো বিশ্বরেকর্ড ভেঙে দেন ৪৬.৭০ সেকেন্ডে দৌড়ে। বার্সেলোনা অলিম্পিকে গড়া ইয়ংয়ের রেকর্ড গত মাসে নিজ দেশেই ভেঙেছেন তিনি। তবে সেটাও যে টোকিওতে ভেঙে যাবে সেটা অনুমিতই ছিল। এই জায়গায় বেঞ্জামিনই ছিলেন এগিয়ে। কিন্তু কাল চিতার গতিতে দৌড়ে ওয়ারহোম যে কীর্তি গড়েছেন সেটায় তিনি নিজেই বিস্ময়ে হতবাক হয়েছেন, ‘আমি জানি না এটা কীভাবে হলো। তবে পুরো ব্যাপারটাই অনুভব করে আমি রোমাঞ্চিত হচ্ছি। এরকম সময়ে রেস শেষ করব সেটা আমার বিশ্বাস ছিল না। অনেকবার ভেবেছিলাম আগের রেকর্ডটা আর ভাঙতে পারব না। মনে হতো ওটাই আমার সেরা। রেস শুরুর আগে এর জন্য কতটা পরিশ্রম করেছি সেটাই বারবার ভাবছিলাম। আর চিন্তায় আসছিল এই একটি জিনিস (পদক) আমার জেতা হয়নি। বলে বোঝাতে পারব না এই পদকের গুরুত্ব আমার কাছে কতটা। এর জন্য আমি অহর্নিশ ভেবেছি, চেষ্টা করেছি।’

ওয়ারহোমের ১ জুলাইয়ের গড়া রেকর্ডেরও কম সময় ৪৬.১৭ সেকেন্ডে গতকাল দৌড়েছেন রুপাজয়ী যুক্তরাষ্ট্রের রাইই বেঞ্জামিন। ৪৬.৭২ সেকেন্ড নিয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছেন ব্রাজিলের অ্যালিসন সান্তোস। ওয়ারহোমের কাছে হেরে গেলেও প্রশংসায় ভাসছেন বেঞ্জামিন। এই লড়াইটাকে অন্যতম সেরা আখ্যা দিয়ে সাবেক ১১০ মিটার হার্ডলের বিশ্বরেকর্ডধারী কলিন জ্যাকসন বলেন, ‘বিশ্বরেকর্ডের আলোচনায় সবসময় সবাই উসাইন বোল্টের ৯.৫৮ এবং গ্রিফিথ জয়নারের ১০.৪৯ এর কথা বলে। আমার চোখে আজকের ওয়ারহোমেরটা অসাধারণ একটা বিশ্বরেকর্ড যা আমি নিশ্চিত দীর্ঘদিন টিকে থাকবে।’