সমস্যা সৃষ্টিকারীদের কঠোর হাতে দমন করা হবে: সিটিটিসি প্রধান

জঙ্গি, অপরাধী, চক্রান্তকারী, গুজব রটনাকারী, সমস্যা সৃষ্টিকারী এবং ধর্মীয় উগ্রবাদী যারা দেশে আতঙ্ক এবং অরাজকতা সৃষ্টির সাথে জড়িত থাকবে তাদের শক্ত হাতে মোকাবিলা করা হবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিশেষায়িত ইউনিট কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) প্রধান মো. আসাদুজ্জামান বুধবার বাসসকে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো  চরমপন্থী, জঙ্গি ও অন্যান্য অপরাধীদের মোকাবিলায় আন্তরিকভাবে কাজ করে চলেছে।

সিটিটিসি প্রধান বলেন, সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সরকার সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ এবং অপরাধী কার্যক্রম কঠোর হস্তে দমন করছে।

আসাদুজ্জামান বলেন, “সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ মোকাবিলা করে দেশকে ঘৃণ্য কার্যক্রম থেকে মুক্ত রাখার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।”

তিনি বলেন, সুদক্ষ পদ্ধতি প্রয়োগ করে এবং অবিরাম অভিযানের মাধ্যমে সিটিটিসি জঙ্গি নেটওয়ার্ক ভেঙে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, তারা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কঠোর এবং নমনীয় ‘স্মার্ট অ্যাপ্রোচ’ এর সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়েছে। 

তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল মানুষ হত্যা করে দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে আইএস জঙ্গিদের নামে চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কোনো অস্তিত্ব নেই।

সিটিটিসি প্রধান বলেন, সরকার কখনোই আইএস’র মতো কোন ধরনের অপরাধীদেরকে দেশে কর্মকাণ্ড চালনার সুযোগ দেবে না।

তিনি বলেন, সকল ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বাংলাদেশে বসবাস করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী ও গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২০৪১ সাল নাগাদ একটি উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

আসাদুজ্জামান বলেন, “আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সারা দেশে জঙ্গিদের আস্তানা এবং তাদের নেটওয়ার্ক ধ্বংস করে দিচ্ছে এবং এখন পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জাতীয় শোক দিবসের আগে ও পরে জনগণের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য যে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।”

তিনি জঙ্গি, সন্ত্রাসী এবং ধর্মান্ধদের বিরুদ্ধে সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেন, সরকার কখনোই দেশে কোন ধরনের অপরাধমূলক কার্যকলাপের সুযোগ দেবে না। তিনি এ ব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সহায়তার জন্য ৯৯৯ নম্বরে ডায়াল করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

সিটিটিসি প্রধান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে সারা দেশে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে গুজব সৃষ্টিকারী এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজ করছে।