ঢাকার কেরানীগঞ্জে শ্যালিকার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে স্ত্রীকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যার পর লাশ গুম করা হয়। ঘটনার দশ মাস পর হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করল দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় স্বামীর দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আব্দুল্লাহপুর আর কদমপুর এলাকার ভাড়া বাসার পাশের পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে স্ত্রীর মোহনার লাশের হাড়, মাথার খুলি, চুলের কিছু অংশ ব্যবহৃত কাপড়সহ বেশ কিছু আলামত বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এর আগে গত বছরের ২৩ নভেম্বর থেকে মোহনা নিখোঁজ থাকলে বিদেশ থেকে ফিরে নিহত মোহনার মা রহিমা বেগম ১৪ জুন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। ওইদিনই মামলার এক নম্বর আসামি ইকবাল ও রহিমা বেগমের ছোট মেয়ে আরিফাকে গ্রেপ্তার করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ।
তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পরদিন আব্দুল্লাহপুর কদমপুর এলাকার ইকবালের ভাড়া বাসার পার্শ্ববর্তী পুকুর থেকে একটি হাড়ের সন্ধান পেয়েছিল পুলিশ। এরপর সেটিকে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। এ ঘটনার পর ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ সর্দারের নির্দেশে সহকারী কমিশনার( কেরানীগঞ্জ সার্কেল) শাহাবুদ্দিন কবির, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ, ইন্সপেক্টর তদন্ত খালেদুর রহমান ও এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাইফুল আলমের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে, যত দ্রুত সম্ভব এই হত্যার রহস্য উদঘাটন করার কথা বলেন।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে গতকাল পুনরায় উক্ত পুকুরে অভিযান চালিয়ে জাল টেনে নিহত মোহনার হাড়গোড় মাথার চুল, জমাট বাঁধা মাংসের টুকরা ব্যবহৃত কাপড়সহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাইফুল আলম বলেন, মামলার তদন্তভার আমার উপর ন্যস্ত হওয়ার পর থেকে এ মামলার জন্য দীর্ঘ পরিশ্রম করতে হয়েছে। অবশেষে মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ বলেন, আসামি ইকবালের জবানবন্দি মোতাবেক আমরা যে লাশের যে অংশবিশেষ উদ্ধার করেছি তার সাথে জবানবন্দির সম্পূর্ণ মিল রয়েছে। তারপরেও অধিকতর তদন্তের স্বার্থে লাশের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করা হয়েছে।
ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল আসলে উদ্ধারকৃত লাশের নমুনা মোহনার কিনা তা সম্পূর্ণ নির্ধারণ করা যাবে। এ ঘটনায় বর্তমানে ইকবাল ও আরিফা কারাগারে রয়েছে।