মমেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে রেকর্ড ৩০ জনের মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আরও ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে যা এ যাবৎকালে দৈনিক সর্বোচ্চ মৃত্যু।

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তাদের মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে ১৬ জন করোনায় আর ১৪ জন করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ফোকালপারসন ডা. মহিউদ্দিন খান মুন।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত করোনায় মারা যাওয়া ১৬ জনের মধ্যে- ময়মনসিংহের পাঁচজন, নেত্রকোনার ছয়জন, টাঙ্গাইলের দুজন, জামালপুরের দুজন ও গাজীপুরের একজন রয়েছেন।

এ সময়ের মধ্যে উপসর্গ নিয়ে মারা ১৪ জনের মধ্যে ময়মনসিংহের সাতজন, জামালপুরের দুজন, নেত্রকোনার তিনজন, সুনামগঞ্জের একজন ও শেরপুরের একজন রয়েছেন।

করোনায় মৃতরা হলেন- করোনা আক্রান্তে মৃতরা হলেন ময়মনসিংহ সদরের আবদুল সালাম (৮০) ও মো. সিরাজুল হক (৫৫), ভালুকা উপজেলার আব্দুল হামিদ (৭২), মুক্তাগাছার নুরুল হক (৮৪), আছিয়া খাতুন (১০০), নেত্রকোনা সদরের পুষ্পা (৩০) ও সাদেক (৪৯), মদনের মাহবুব (৬৫), কলমাকান্দার আবদুল মজিদ (৬৭), পূর্বধলার আব্দুল করিম (৫৫), আটপাড়ার মাহমুদুল হাসান (৬৫), জামালপুর সদরের আব্দুল মজিদ (৭০) ও হাজেরা বেগম (৬০), টাঙ্গাইল মধুপুরের আব্দুস সামাদ (৬৫), সফিপুরের সানোয়ার হোসেইন (৮৫) এবং গাজীপুর শ্রীপুরের সিরাজুল ইসলাম (৮৫)।

করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃতরা হলেন- ময়মনসিংহ সদরের শাহাবুদ্দিন (৫৭), আব্দুর রহিম (৭০), তারাকান্দার নূরজাহান (৫৫) ও হোসেন আলী (৬৫), ফুলপুরের মুজিবুর রহমান (৬৫), হালুয়াঘাটের সাইয়িদ আলী (৭৯), নান্দাইলের নজরুল ইসলাম (৭০), নেত্রকোনার মদনের আছিয়া (৭৫), পূর্বধলার সালেমা (৫৮), দুর্গাপুরর আব্দুর রশীদ (৬৫), জামালপুর সরিষাবাড়ীর মাজেদা বেগম (৬৫), দেওয়ানগঞ্জের ইমাম হোসেন (২৬), শেরপুর সদরের ফিরোজা (৬৫) এবং সুনামগঞ্জ জামালগঞ্জের সুধারঞ্জন সরকার (৫০)।

ডা. মহিউদ্দিন খান মুন জানান, করোনা ইউনিটে বর্তমানে ৫২৫ জন রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে আইসিইউতে রয়েছেন ২৩ জন রোগী। নতুন ভর্তি হয়েছেন ৫১ জন ও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮৭ জন।

এদিকে ময়মনসিংহ জেলায় ১ হাজার ৭১১টি নমুনা পরীক্ষা করে ৪০২ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ পাওয়া গেছে। শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ বলে জানিয়েছে সিভিল সার্জন দপ্তর।

এছাড়া ময়মনসিংহের কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫০ শয্যার করোনা ইউনিটে ভর্তি রয়েছে ৩৯ জন রোগী। এর মধ্যে ২৯ জন করোনা নিয়ে এবং ১০ জন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। বিষয়টি জানিয়েছে করোনা ইউনিটের ফোকালপারসন ডা. খায়রুল আলম সিজার।