শিল্পী সমিতির সদস্যপদ স্থগিত হলেও শুটিংয়ে অংশ নিতে পারবেন পরীমণি

মাদক মামলায় গ্রেপ্তারের পর পরীমণির সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে শিল্পী সমিতি। পরীমণির কারণে চলচ্চিত্র শিল্পীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে দাবি করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর। শনিবার এফডিসিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিশা বলেন, “পরীমণির ঘটনাটি আমাদের চলচ্চিত্র তথা শিল্পী সমাজের জন্য বিব্রতকর। আমরা কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেই না। তার বিষয়টির মামলা চলমান। এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করা ঠিক না। আমরা তাই পরীমণির সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করলাম।”

এদিকে পরীমণির সদস্যপদ স্থগিত করলেও তিনি শুটিংয়ে অংশ নিতে পারবেন। করতে পারবেন তার অসমাপ্ত সিনেমার কাজগুলোও।

এ বিষয়ে শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর বলেন, ‘সদস্যপদ থেকে স্থগিতাদেশ না ওঠা পর্যন্ত পরীমণি সংগঠনের কোনো কার্যক্রমে আমন্ত্রণ বা অংশ নিতে পারবেন না। তবে তিনি তার অসমাপ্ত সব শুটিং-ডাবিং শেষ করতে পারবেন। গঠনতন্ত্র ও কার্যকরী কমিটির সিদ্ধান্তের জন্যই শুধু স্থগিতের এই ঘোষণা। পরী চাইলে তিনি তার অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে পারবেন। অভিনয় চালিয়ে যেতে পারবেন। পরীর বিরুদ্ধে মামলাসহ বেশ কিছু অভিযোগ আসায় তার সদস্যপদ আপাতত স্থগিত হলো। কিন্তু তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হলে আবার সদস্যপদ ফিরে পাবেন।’

শুধু পরীমণি নন, অনেক অভিনয়শিল্পীই রয়েছেন যারা বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সদস্য নন। তারাও কাজ করছেন। এর আগে চিত্রনায়ক রোশানও শিল্পী সমিতির সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছিলেন। তিনিও সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন। সমিতির নিয়ম অনুযায়ী ন্যূনতম তিনটি সিনেমায় অভিনয় করলে তাকে শিল্পী সমিতির সদস্যপদ দেওয়া হয়।

গত বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীতে পরীমণির বাসায় প্রায় চার ঘণ্টার অভিযান শেষে তাকে আটক করে র‌্যাব। এ সময় তার বাসা থেকে মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। পরদিন তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। ওই মামলায় তাকে চার দিনের রিমান্ডে দিয়েছে আদালত। পরীমণির মামলাটির তদন্তভার প্রথমে ডিবিতে ও পরে শুক্রবার সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

২০১৫ সালে শাহ আলম মণ্ডল পরিচালিত ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্রে যাত্রা করেন পরীমণি। এরপর তিনি প্রায় ৩০টির মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তার সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘বিশ্বসুন্দরী’।