করোনার বিধিনিষেধ দেখভালে সিডনির রাস্তায় ৩০০ সেনা মোতায়েনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নৃতাত্ত্বিকভাবে সংখ্যালঘু অনেকে। খবর বিবিসি।
স্থানীয় কাউন্সিলর দাই লে জানান, পিছিয়ে থাকাদের ভয় দেখানোই যদি উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তারা তা-ই করছে।
সিডনির কভিড প্রাদুর্ভাবের আট কেন্দ্রস্থল হিসেবে বিবেচিত এলাকার একটি দাই লে’র নির্বাচনী অঞ্চল ফেয়ারফিল্ড।
সিডনির পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমের এই দরিদ্র এবং নৃতাত্ত্বিকভাবে বৈচিত্র্যময় শহরতলিতে প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দার বসবাস। তাদের অনেককে খাদ্য, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য শিল্পে অপরিহার্য শ্রমিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
লকডাউনের বিধিমালা বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ১০০ পুলিশ কর্মকর্তা মোতায়েনের এক মাস পর এখানে সেনারা যোগ দেয়।
দাই লে বলেন, তারা আমাদের সঙ্গে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকের মতো আচরণ করছে।
আরও বলেন, তারা মানুষের আত্মবিশ্বাস হত্যা করেছে, তারা এতটা ভয় জাগিয়ে তুলেছে। এটা কী বার্তা দেয়? ইতিমধ্যে অবরুদ্ধ একটি সম্প্রদায়ের সঙ্গে এ সব কী করা হচ্ছে?
ডেল্টার সংক্রমণ বাড়ার পর সিডনিতে চার হাজারের বেশি আক্রান্ত পাওয়া গেছে, মারা গেছে ২৭ জন। তাই শহরতলিকে অন্য এলাকায় চেয়ে বেশি বিধিনিষেধের মাঝে রাখা হয়েছে।
সিডনিতে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত লকডাউন বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু এ সব এলাকায় নীতির কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। এখানকার বাসিন্দাদের বাড়ির বাইরেও মাস্ক পরতে বলা হয়েছে। যেখানে অন্য এলাকায় ১০ কিলোমিটারের বাইরে ভ্রমণ নিষিদ্ধ, এ সব এলাকায় তা ৫ কিলোমিটারে সীমাবদ্ধ।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার কিছু এলাকায় লকডাউন ওঠে গেলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় সিডনিতে উল্টো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মধ্য জুনে একজন আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ক্রু’র মাধ্যমে ৫০ লাখ বাসিন্দার সিডনিতে করোনার ডেল্টা সংক্রমণ নতুন করে শুরু হয়।
এ দিকে দেশটিতে টিকা দেওয়ার গতি বেশ ধীর। এ পর্যন্ত প্রায় ১৭ শতাংশ লোককে টিকা দেওয়া হয়েছে। ফাইজার/বায়োএনটেকের টিকা সরবরাহে ঘাটতির কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে। অ্যাস্ট্রাজেনকার টিকা নিয়ে সন্দেহ থাকায় দেশটি এই টিকা ব্যবহার করছে না।
অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যা আড়াই কোটি। করোনায় এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে সাড়ে ৩৫ হাজারেরও বেশি লোক। মারা গেছে ৯৩২ জন।