ফেনীতে স্বর্ণের বারসহ ওসি গ্রেপ্তার: বিশ্বাস হচ্ছে না স্বজন ও এলাকাবাসীর

ডাকাতির অভিযোগে ফেনী গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামসহ ছয় কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ডাকাতির ১৫টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। 

গ্রেপ্তার ওসি সাইফুল ইসলামের বাড়ি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ১০ নম্বর বাতিসা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লুদিয়ারা গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায়। সাইফুল ইসলাম এলাকায় ‘পারভেজ’ নামে পরিচিত ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিস্মিত স্বজন ও এলাকাবাসী।

ডিবির ওসি সাইফুল ইসলামের ভাই সাইদুল ইসলাম বুধবার বিকেলে বলেন, ‘আমিও আপনাদের মতো আমার ভাইয়ের আটকের খবর জেনেছি। তবে বিশ্বাস করতে পারছি না। আমার ভাই সাইফুল ইসলাম ছাত্রজীবন থেকেই অনেক মেধাবী ছিলেন। তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। তিনি একজন ভালো লোক। এলাকায় কারো সঙ্গে বিবাদ ছিল না। একেবারে সাধারণ মানুষ হিসেবে জীবন পরিচালনা করছেন’। 

প্রতিবেশী বাতিসা ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী নুরুল ইসলাম মানিক বলেন, ‘ওসি সাইফুল ইসলাম ছাত্রজীবনে কোনো রাজনীতি করতেন না। তিনি একজন ভালো লোক। দু ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি একজন মেধাবী ও বিচক্ষণ মানুষ। স্বর্ণের বারসহ তার গ্রেপ্তারের খবরটি বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে’। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন মজুমদার বলেন, ‘সাইফুল ইসলাম পারভেজ পুলিশে চাকরি করে আমাদের এলাকার সুনাম বাড়িয়েছেন। তার আটকের খবরটি শুনেছি। তবে কীভাবে যে কী হলো-বুঝতে পারছি না। কারণ-চাকরি জীবনে তিনি একটি ঘর দিতে পারেননি। এলাকায় ভালো লোক হিসেবে তাকে সবার নিকট পরিচিত’। 

গত ৮ আগস্ট চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী গোপাল কান্তি দাস ঢাকা যাচ্ছিলেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশের স্টার লাইন ফিলিং স্টেশনের কাছে ডিবি পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে তাকে থামানো হয়। তখন ব্যবসায়ী গোপাল কান্তির কাছ থেকে প্রায় এক কোটি ২৭ লাখ টাকা মূল্যের ২০টি স্বর্ণের বার ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় গোপাল কান্তি দাস থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। 

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে এক কোটি ২৩ লাখ টাকা মূল্যের ১৫টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয় বলে জানান ফেনী জেলা পুলিশ সুপার খোন্দকার নূরুন্নবী।