ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে বালুমহাল: চৌহালীতে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে অবৈধভাবে বালু মহাল স্থাপনের প্রতিবাদে সিরাজগঞ্জের চৌহালি উপজেলার সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম সিরাজের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী বিক্ষোভ করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এনায়েতপুর-সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের বেতিল বাজারে আধা ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা।

সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সিরাজুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম জাহিদ, মনিরুজ্জামান মনি, নূর মোহাম্মদ সিকদার, গোলাম হোসেন, রজব আলী, হাফিজুর রহমান, মনসুর আলী প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চৌহালি উপজেলার সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম সিরাজ যমুনার চরের ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে জোরপূর্বক অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। এ ছাড়া গত জুন মাসের দিকে সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের উড়াপাড়া, দুলিয়াবাড়ি, গাবেরপাড়া, বিনদহ, দেওয়ানতলা, শাহজাদাপাড়া, উল্লাপাড়া, মৌহালি, হোনকুলসী ও তারাবাড়িয়া এলাকার ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে বালুমহাল স্থাপনের জন্য সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছে। তার এই অপতৎপরতা আমরা কখনো মেনে নেব না। যদি এ সব জমিতে বালুমহালের অনুমতি দেওয়া হয়, তবে আমরা লংমার্চ ও ডিসি অফিস ঘেরাও কর্মসূচি পালন করব। তারা আরো বলেন, সিরাজ চেয়ারম্যান স্থানীয় এমপি আব্দুল মমিন মন্ডলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হওয়ায় এলাকাবাসীকে নানাভাবে অত্যাচার-নির্যাতন করছে। তিনি সম্প্রতি  উপজেলার খামারগ্রামের এক হিন্দু পরিবারের বাড়ি জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছেন। এখন তার চোখ পড়েছে আমাদের জমির ওপর। এখানে বালুমহাল স্থাপন করে রাতারাতি অঢেল অর্থের মালিক হওয়ার পাঁয়তারা করছে। আমরা এটা কিছুতেই হতে নেব না।

মানববন্ধন চলাকালে এনায়েতপুর থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম সিরাজ বলেন, গত ইউপি নির্বাচনে আমার সঙ্গে পরাজিত প্রার্থীরা ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে মিথ্যা অভিযোগে এ মানববন্ধন করেছেন।

তিনি আরো বলেন, ভূমি অফিস ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সার্ভে করে বালু মহালের স্থান নির্ধারণ করে থাকে। সে অনুযায়ী ডিসি অফিস থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়। ফলে এখানে  আমার কোনো হাত নেই।

তিনি বলেন,হিন্দু পরিবারের বাড়ি দখলের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি কখনই এমপি সাহেবের প্রভাব দেখাই না। আমি কাউকে নির্যাতন করিনি। এ সব অভিযোগ সত্য নয়।

এ বিষয়ে চৌহালি উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) আনিছুর রহমান বলেন, মানববন্ধনের বিষয়টি শুনেছি। কিন্তু এ বিষয়ে লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।