টানা মুষলধারে বা কিছুক্ষণ, যে পরিমাণ বৃষ্টিই হোক না কেন রাজশাহী শহরের রাস্তায় রাস্তায় জমছে পানি। পাড়া-মহল্লার ছোট রাস্তায় শুধু নয়, নগরীর বড় বড় রাস্তায়ও জমে যাচ্ছে হাঁটুপানি। একটু বেশি বৃষ্টি হলেই নগরবাসীকে পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। বৃষ্টির প্রভাবে নগরীর মোড়ে মোড়ে তৈরি হয় জলজট ও যানজট। এছাড়া কোনো কোনো আবাসিক এলাকায় ড্রেন উপচে নোংরা পানি অনেকের বাড়িতেও ঢুকে পড়ে।
অল্প বৃষ্টিতে তৈরি হওয়া জলাবদ্ধতা বৃষ্টি থামার কিছুক্ষণ পরই দূর হলেও ভারী বৃষ্টিতে কোনো কোনো এলাকার পানি নামতে সময় লাগে দুই থেকে তিন দিন। ড্রেনগুলো দিয়ে ঠিকভাবে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ নগরবাসী। সর্বশেষ গত দুদিন ধরে টানা বৃষ্টির ধকল সামলাচ্ছে নগরবাসী। নগরীর পথে পথে জমেছে পানি।
গত দুদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে রাজশাহীতে। রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীতে বৃষ্টি হয়েছে ৩৪ মিলিমিটার, পরদিন ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয় ৭৩ মিলিমিটার। আর গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ২২ মিলিমিটার। এছাড়া সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টি হয় আরও ২৩ মিলিমিটার। বৃষ্টির প্রভাবে নগরীর মোড়ে মোড়ে তৈরি হয় জলজট। ‘লকডাউনের’ পর এমনিতেই একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক যানবাহন রাস্তায় নামায় তৈরি হয় যানজট, তার ওপর এই জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগের মাত্রা বেড়ে যায়। গত বুধবার দিনভর দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে নগরবাসীকে। রাতে কিছু কিছু এলাকার পানি কমলেও অনেক এলাকাতেই গতকালও জমেছিল পানি। এদিকে বর্ষার মাঝে কিছু কিছু এলাকায় উন্নয়নকাজের কারণে দুর্ভোগের মাত্রা আরও বেশি।
জলাবদ্ধতায় চরম কষ্টে পড়েন নগরীর বিভিন্ন এলাকার মানুষ। গত বুধবারের বৃষ্টিতে নগরীর উপশহর, দড়িখরবোনা, সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট, তেরখাদিয়া, বর্ণালী মোড়, কাদিরগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, ঝাউতলা, ভাটাপাড়া, রেলগেট, পলিটেকনিকের সামনে, কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার সামনে, পর্যটন মোটেল রোডসহ নগরীর অলিগলিতে পানি জমে যায়। পর্যটন মোটেলের সামনে জমে যায় হাঁটুপানি। রাজশাহী জেলা পরিষদের ভেতরেও ঢুকে যায় পানি। স্যালোমেশিন বসিয়ে সেখান থেকে পানি নিষ্কাশন করা হয়।
বৃষ্টি শুরুর পরপরই নগরীর উপশহর এলাকার রাস্তাগুলো পানিতে ডুবে যায়। ব্যস্ত এ আবাসিক এলাকায় মানুষকে পড়তে হয় চরম অসুবিধায়। ড্রেন উপচে পানি অনেকের বাড়িতেও প্রবেশ করে। অল্প বৃষ্টিতেই এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় মানুষের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নগরীতে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমছে। দীর্ঘ সময় জলজটের পর পানি নামছে ধীরে ধীরে। সহজে পানি নামে না। কোনো কোনো এলাকায় এক দিন বৃষ্টি হলে পরের কয়েক দিন পানি জমে থাকে। ড্রেনগুলো দিয়ে ঠিকভাবে পানি না নামায় এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভারী বর্ষণ হলে পানি নামতে সময় লাগছে। এর অনেক কারণ রয়েছে। তা হলো কয়েকটি জায়গায় ড্রেন সংস্কারসহ বেশকিছু উন্নয়নকাজ চলছে। আবার কিছু জায়গায় সাধারণ মানুষ ড্রেনের মধ্যে বস্তাসহ বিভিন্ন আবর্জনা ফেলে রাখার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।