চিত্রনায়িকা পরীমণিসহ সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন দেশের ১৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক। গতকাল বৃহস্পতিবার সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের প্যাডে লেখা এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে সুনামগঞ্জের শাল্লায় গ্রামবাসীকে উত্তেজিত করে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা ও লুটতরাজের ঘটনা অতীব দুঃখজনক বলে মত প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন আবদুল গাফফার চৌধুরী, হাসান আজিজুল হক, সৈয়দ হাসান ইমাম, অনুপম সেন, রামেন্দু মজুমদার, সেলিনা হোসেন, আবেদ খান, ফেরদৌসী মজুমদার, সারোয়ার আলী, মফিদুল হক, মামুনুর রশীদ, আবদুস সেলিম, নাসির উদ্দিন ইউসুফ, শাহরিয়ার কবীর, মুনতাসীর মামুন, গোলাম কুদ্দুছ ও হাসান আরিফ।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে সামাজিক অবক্ষয়, সাম্প্রদায়িকতা এবং নারীবিদ্বেষী পুরুষতান্ত্রিকতার বিস্তার যেভাবে ফুটে উঠেছে তা আমাদের গভীরভাবে ব্যথিত ও উদ্বিগ্ন করেছে। সুনামগঞ্জের শাল্লায় গ্রামবাসীকে উত্তেজিত করে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা ও লুটতরাজের ঘটনা অতীব দুঃখজনক। এ হামলায় অপরাধমূলক কর্মকা-ের বিচার তো হলোই না; বরং বিনা বিচারে কারাবাসে রয়েছেন এক যুবক। এরই ধারাবাহিকতায় খুলনার রূপসা উপজেলায় ভাঙচুর করা হয়েছে উপাসনালয় ও প্রতিমা।
এদিকে চলচ্চিত্র জগতের এক অভিনেত্রীকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের ‘নব্য ধনিক’ সমাজের যে চেহারা ফুটে উঠেছে, তা নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে বিবৃতিতে। এতে আরও বলা হয়েছে, পুরুষতান্ত্রিক কূপম-ূক চিন্তার এই দাপট সামগ্রিকভাবে সমাজকে এবং বিশেষভাবে নারীকে নানাভাবে নিঃগৃহের শিকারে পরিণত করেছে। ‘আমরা এর সঙ্গে জড়িত ও ইন্ধনদাতাদের মুখোশ উন্মোচনের দাবি করছি।’