ছোটমণি নিবাসে শিশুকে আছড়ে, বালিশচাপা দিয়ে হত্যা

সিলেট নগরীর বাগবাড়িতে অবস্থিত সমাজ সেবা অধিদপ্তর পরিচালিত সরকারি ছোটমণি নিবাসে দু মাস ১০ দিন বয়সী এক ছেলে শিশুকে হত্যার অভিযোগে ওই আয়া সুলতানা ফেরদৌসীকে আটক করা হয়েছে।

ছোটমণি নিবাসের সিসি ক্যামেরায় রেকর্ড হওয়া ফুটেজে দেখা গেছে, আয়া  সুলতানা ওই শিশুটিকে প্রথমে আছড়ে নিচে ফেলেন এবং পরে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করেন। এরপর শিশুটিকে তার শয্যায় শুইয়ে রাখেন।

শিশুটিকে মৃত অবস্থায় পাওয়ার পর এ ব্যাপারে সমাজসেবা অধিদপ্তর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কোতোয়ালি থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে নাবিল আহমদ নামের শিশুটিকে কবর দেওয়া হয়। ঘটনার ২০ দিন পর বৃহস্পতিবার রাতে কোতোয়ালি থানায় এসএমপির উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের এক পর্যালোচনা সভায় ওই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়।

এসএমপির উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখের নেতৃত্বে পর্যালোচনায় শিশুটিকে হত্যার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে ধরা পড়ে। এরপর রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের একটি দল ছোটমণি নিবাসে গিয়ে শিশুটি যে কক্ষে থাকত তার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। এতে শিশুটিকে আছড়ে ও বালিশচাপা দিয়ে হত্যার চিত্র দেখে আয়া সুলতানা ফেরদৌসীকে আটক করা হয়।

কোতোয়ালি থানার ওসি এসএম ফরহাদ দেশ রূপান্তরকে জানান, গত ১২ জুন সিলেটের গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ ওই শিশুটিকে বাগবাড়ির ছোটমণি নিবাসে দিয়েছিল। এক ভবঘুরে নারীর জন্ম দেওয়া ওই শিশুর নাম রাখা হয়েছিল নাবিল আহমদ। ছোটমণি নিবাসের আয়া সুলতানা ফেরদৌসী ওই শিশুর পরিচর্যার দায়িত্বে ছিলেন। গত ২৩ জুলাই সকালে শিশুটিকে তার বিছানায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

ওসি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে এসএমপির উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা কোতোয়ালি থানায় বার্ষিক পরিদর্শনে যান। এ সময় বিভিন্ন মামলা পর্যালোচনাকালে ওই শিশুর ‘অপমৃত্যু’ মামলাটিও খতিয়ে দেখা হয়। সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ গিয়ে ছোটমণি নিবাসের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তাকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে।

ওসি জানান, আটক আয়াকে আসামি করে এ ব্যাপারে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।          

ওসি আরো জানান, দুইটি বিষয়কে সামনে রেখে মামলা তদন্ত করা হবে। প্রথমত হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তীতে এ ঘটনা ধামাচাপায় কেউ জড়িত কি-না তা দেখা হবে। যারাই জড়িত থাকতে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। 

এ ব্যাপারে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সিলেটের উপপরিচালক নিবাস দাশ বলেন, ‘ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার কোনো চেষ্টা হয়নি। শিশুটি মারা যাওয়ার পরই আয়া সুলতানা ফেরদৌসীকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হয় এবং পুলিশকে দেওয়ার জন্য কক্ষের সিসি ক্যামেরার ফুটেজও সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল’।

তিনি বলেন, তদন্তে যারাই দোষী প্রমাণিত হবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।