শিরোপা জেতানোর চাপ পচেত্তিনোর ওপর

এতদিন ‘গ্যালাকটিকোস’ নামটি বরাদ্দ ছিল শুধু রিয়াল মাদ্রিদের জন্যই। ২০০৫-০৬ মৌসুমে বিশ্বসেরা সব ফুটবলার এক করে রিয়াল মাদ্রিদে তারকার হাট বসিয়েছিলেন মালিক ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। লিওনেল মেসির পিএসজিতে যোগদানে এখন তেমনই মর্যাদায় প্যারিস সেন্ট জার্মেই। কেবল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোরই যোগ দেওয়া বাকি এই ক্লাবে। এর বাইরে সব তারকাই যে এখন এক ছাদের নিচে। তাতে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দলে রূপ নিয়েছে পিএসজি। মালিক নাসের আল খেলাইফি চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের টার্গেট নিয়েই নেইমার-এমবাপে-ডি মারিয়াদের সঙ্গে রামোসের পর মেসিকে কিনে আনলেন। এবার প্রশ্ন হচ্ছে পিএসজি সামনের মৌসুমেই ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্ব পাবে তো!

এর উত্তরে সবার চোখ এখন কোচ মউরিসিও পচেত্তিনোর দিকে। ফুটবলে আহামরি অভিজ্ঞ কোচ নন পচেত্তিনো। বড় শিরোপা জয়েরও অতীত নেই তার। অ্যালেক্স ফার্গুসন, হোসে মরিনহো, পেপ গার্দিওলাদের কাতারে যেতে তার বহু পথ বাকি। এমন অবস্থায় ফুটবল মস্তিষ্কে ক্ষুরধার লিওনেল মেসি ও সার্জিও রামোসকে সামলানোর দায়িত্ব চলে এসেছে তার ওপর।

পচেত্তিনোর জন্য চ্যাম্পিয়নস লিগ চ্যালেঞ্জ যথার্থ। ইউরোপের সেরাদের টপকেই তো সেরা দলটিকে শিরোপা জেতাতে হবে তাকে। তারকাবহুল দলটির জন্য ওই লিগই সঠিক লক্ষ্য। তার আগে আরেকটি চ্যালেঞ্জও আছে পচেত্তিনোর জন্য। গত মৌসুমে ফরাসি জায়ান্টদের পেছনে ফেলে ফরাসি লিগ ওয়ান জিতেছিল লিলে। এবার যে ঘরোয়া শিরোপা পুনরুদ্ধার করতেই হবে পিএসজিকে। মেসি, নেইমার, এমবাপে, রামোসদের নিয়ে লিগ শিরোপা না জেতাটাই যে বিশাল ব্যর্থতা হয়ে দাঁড়াবে পিএসজি ও পচেত্তিনোর জন্য।

পিএসজি মালিক খেলাইফি অবশ্যই জানেন তাদের চাপটা কোথায়। তাই স্বীকারও করলেন, ‘অবশ্যই চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়টাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য। লিগ শিরোপাও পুনরুদ্ধার করতে হবে। সবাই দেখছে আমরা কত ভারী একটা দল। কিন্তু এখনো আমরা কিছু জিততে পারিনি। আমরা জানি এমন একটি দল নিয়ে শিরোপা জিততে না পারা বিশাল ব্যর্থতা। এই চাপ কতটা চ্যালেঞ্জিং তা জানি আমরা সবাই। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জটাই আমাদের জিততে হবে।’

বার্সেলোনার সঙ্গে মেসির চুক্তি না হওয়াটা ফুটবল বিশ্বের জন্য বড় দুঃসংবাদ। এই সময়ে একমাত্র পিএসজির পক্ষেই মেসিকে কেনার সামর্থ্য ছিল। এবং ফরাসি জায়ান্টরা তা দেখিয়েছে। একই সঙ্গে মেসিও জানিয়েছেন স্বদেশি কোচ পচেত্তিনো থাকাতেই পিএসজির প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। মেসির শৈশবের ক্লাবেও যে খেলেছেন পচেত্তিনো। তাই মেসির সঙ্গে তার ভালো বোঝাপড়া গড়ে উঠবে বলে বিশ্বাস খেলাইফির, যা সুবিধা দেবে পুরো দলকেই।

চ্যাম্পিয়নস লিগের খোঁজে টানা দুটি মৌসুম শিরোপার কাছে গিয়েও হতাশ হতে হয় পিএসজিকে। গতবার সেমিফাইনালেই থামে তাদের অভিযান। তার আগেরবার আরও কাছে গিয়ে রানার্সআপ হয় বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরে। তাই চলতি মৌসুমে নিজেদের শক্তি আরও বাড়িয়ে তৈরি পিএসজি। আক্রমণভাগে নতুন জুটি (মেসি-নেইমার-এমবাপে) তৈরি হয়েছে। আছেন ডি মারিয়াও। মাঝমাঠে দলটির নতুন চুক্তি জর্জিনিও উইনালডম মার্কো ভেরাত্তির সঙ্গে অন্যতম সেরা সংযুক্তি। পিএসজির নতুনদের মধ্যে মাত্র ২২ বছর বয়সী মরোক্কান তরুণ আশরাফ হাকিমি নিজেকে সেরা রাইটব্যাক প্রমাণ দিয়েই এই ক্লাবে এসেছেন। সার্জিও রামোসকে নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। সাবেক রিয়াল ও স্প্যানিশ অধিনায়ক যে পরীক্ষিত চ্যাম্পিয়নস লিগ উইনার তা বারবারই প্রমাণ করেছেন। সবশেষ গোলপোস্টের নিচে সাবেক এসি মিলান ও ইতালি তারকা জিয়ানলুইজি দোন্নারুমাকেও নিয়েছে পিএসজি। এই দল নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে না পারা বড় ব্যর্থতা হবে পচেত্তিনোর জন্য।