সুন্দরবন সুরক্ষায় ১৫৮ কোটি টাকার প্রকল্প

সুন্দরবন সুরক্ষায় ১৫৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বন বিভাগ। এই প্রকল্পের অধীনে সুন্দরবনের প্রতিবেশ সুরক্ষা ও পুনরুদ্ধার, স্থায়িত্ব বৃদ্ধি, বন্য প্রাণী ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, বাঘ ও মানুষের বিরোধ হ্রাস, বন ও বন্য প্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চার বছরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে আমূল পাল্টে যাবে সুন্দরবনের প্রাণবৈচিত্র্য। তবে বিপন্ন সুন্দরবন বাঁচাতে দুর্নীতিমুক্ত ও পরিকল্পিতভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।

খুলনা বিভাগীয় বন বিভাগের দেওয়া তথ্যমতে, প্রকৃতি ও মানুষের আগ্রাসনে সংকটে পড়েছে বিশে^র সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন। বিষ দিয়ে মাছ শিকার, নিয়ন্ত্রণহীন পর্যটন, বন্য প্রাণী নিধন, অবাধে গাছ কাটা ও বনের ভেতর দিয়ে ভারী নৌযান চলাচলে বনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রাকৃতিক কারণে বেড়েছে সুন্দরবনের পানি ও মাটির লবণাক্ততা, পলি ও ভাঙন। এতে বনের প্রধান সম্পদ সুন্দরী গাছ ও ঘন বনের পরিমাণ কমে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে সুন্দরবন সুরক্ষায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ১৫৭ কোটি ৮৭ লাখ ৫১ হাজার টাকা ব্যয়ে ‘সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্প’ হাতে নিয়েছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। শেষ হবে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর।

গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, উপযুক্ত কর্মপরিবেশ তৈরি ও বনে টহল শক্তিশালী করা হবে। সম্পদের পরিমাণ, বন্য প্রাণীর সংখ্যা, বন্য প্রাণীর  আবাস্থল, রোগ-বালাই, রক্ষিত বনাঞ্চলের বৈশিষ্ট্য ও জলজ সম্পদ পরিমাপ করা হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মাটি ও পানির লবণাক্ততা পরীক্ষাসংক্রান্ত জরিপকাজ সম্পাদনের মাধ্যমে পরিবীক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সম্পদের টেকসই সরবরাহ নিশ্চিত, পারমিট সিস্টেম ও পরিচয়পত্র অটোমেশনের মাধ্যমে সেবা সহজ করা হবে।

এ ছাড়া ৩৬১ দশমিক ৪৫ হেক্টর চরে বনায়ন, ২২২ দশমিক ২২ হেক্টরে প্লান্টিনেশন, ৫০ হেক্টর ব্লক বাগান সৃজনসহ বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ রোপণের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের কাঠের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সবুজবেষ্টনী তৈরির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করা হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খুলনার সম্পাদক কুদরত-ই-খুদা বলেন, ‘সুন্দরবন সুরক্ষায় প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি ৫০ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান করা দরকার। বনের আশপাশে শিল্পকারখানা গড়ে তোলা বন্ধ করে ইকো-ট্যুরিজমের উন্নয়ন করতে হবে। এসব করা গেলে প্রকৃত অর্থে সুন্দরবন সুরক্ষা পাবে।’

বৃহত্তর খুলনা সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উজ্জামান বলেন, ‘আগে সুন্দরবন সুরক্ষায় বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও প্রত্যাশিত সুফল মেলেনি। বর্তমান প্রকল্প ভালো উদ্যোগ। এটি পরিকল্পিত, বিজ্ঞানভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্তভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। প্রকল্প তদারকে সেল গঠন করতে পারলে সুফল আনা সম্ভব হবে।’

খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দে বলেন, ‘ইতিমধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে সমন্বিত বন ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা হবে।